পাচার রুখতে মরিয়া প্রশাসন: আলিপুরদুয়ারে চারটি অবৈধ গরুর হাট ও কষাইখানা বন্ধ | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৩ মে ২০২৬ :

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলাকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী রাজ্য অসম ও কোচবিহার সীমান্তে গবাদি পশু পাচারের অভিযোগ আসছিল। এই পাচারচক্র ও সিন্ডিকেট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোরও কম হয়নি। অবশেষে পাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর মঙ্গলবার রাত থেকেই জেলায় ব্যাপক ধরপাকড় ও অভিযান শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, জেলার মোট ১২টি গরু ও মোষের হাটের নথি যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, আলিপুরদুয়ার ২ ব্লকের শামুকতলা, ফালাকাটা ব্লকের শিশাবাড়ি, জটেশ্বর ও শিশারগোড়ের হাটগুলির কোনো সরকারি ছাড়পত্র নেই। এরপরই তড়িঘড়ি এই চারটি অবৈধ হাট বন্ধ করে দেয় জেলা পুলিশ। পাশাপাশি, ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী জয়গাঁ শহরে অন্তত ১০টি অবৈধ গোমাংসের কষাইখানার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বীরপাড়ার লঙ্কাপাড়া এলাকাতেও লাইসেন্সবিহীন একটি মাংসের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের সাফল্যের অঙ্গ হিসেবে মঙ্গলবার গভীর রাতে ফালাকাটার জটেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ি একটি পিক-আপ ভ্যান ধাওয়া করে ৫টি গরু উদ্ধার করে। এই ঘটনায় পাচারচক্রের এক পাণ্ডাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার অমিত কুমার শাহ জানিয়েছেন, “রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে অবৈধ পাচার ও লাইসেন্সহীন কষাইখানা বন্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বাকি হাটগুলির নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অভিযান লাগাতার চলবে।”
এই পুলিশি তৎপরতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মৃদুল গোস্বামী বিষয়টিকে পুলিশের রুটিন কাজ বলে অভিহিত করলেও, বিজেপি জেলা সভাপতি মিঠু দাস দাবি করেছেন যে, দীর্ঘদিনের পাচার সিন্ডিকেট এবার পুলিশের সক্রিয়তায় বন্ধ হবে। আপাতত সীমান্ত এলাকায় পুলিশি টহল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!