নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২০ মে ২০২৬ :

আলিপুরদুয়ার: পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণা এবং ‘চা সুন্দরী’ আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার বদলে ঘুষ নেওয়ার জোড়া অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল আলিপুরদুয়ারে। দুটি পৃথক ঘটনায় কাঠগড়ায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমিধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আলিপুরদুয়ারের রাজনৈতিক মহল। ঘটনার তদন্তে নেমেছে শামুকতলা থানার পুলিশ।
প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার-২ পঞ্চায়েত সমিতি এলাকায়। সেখানে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩ লক্ষ টাকার চুক্তি এবং তার মধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অগ্রিম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কোহিনুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা নারায়ণ দাসের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আলিপুরদুয়ার-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ঝুমা দাসের স্বামী। তুরতুরি এলাকার বাসিন্দা, অভিযোগকারী রাজীব দাস মঙ্গলবার রাতে শামুকতলা থানায় এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, প্রায় তিন বছর আগে কলকাতা পুলিশে তাঁর ভাইয়ের চাকরির জন্য ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও চাকরি মেলেনি। উল্টে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, শামুকতলা থানা এলাকাতেই বুধবার আরও একটি দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি ‘চা সুন্দরী’ আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে চা বাগানের দরিদ্র শ্রমিকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ২৬ জন উপভোক্তা একত্রিত হয়ে মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় নির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পরপর এই দুই দুর্নীতির অভিযোগে শাসকদলকে তীব্র নিশানা করতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির। বিরোধীদের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে শোষণ করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের কাছ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আলিপুরদুয়ারের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) শ্রীনিবাস এম পি জানিয়েছেন, “দুটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”