নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৭ মে ২০২৬ :

শামুকতলা, ১৭ মে: পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া এক কুখ্যাত চোরকে গ্রেপ্তার করে বড়সড় সাফল্য পেল শামুকতলা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম ঝুমন আলি, সে কোচবিহারের তুফানগঞ্জ কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না ও নগদ টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ শামুকতলা থানায় একটি চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫(এ) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত ঝুমন আলিকে। কিন্তু গত ৭ মে শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে, বাথরুমে যাওয়া ও স্নান করার কথা বলে শামুকতলা ফাঁড়ির দেয়াল টপকে চম্পট দেয় সে। পুলিশের হেফাজত থেকে এভাবে আসামি পালিয়ে যাওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় প্রশাসন ও সাধারণ মহলে।
এরপরই পলাতক আসামির খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর আসে যে, অভিযুক্ত ঝুমন আলি জলপাইগুড়ির মালবাজার এলাকায় আত্মগোপন করে রয়েছে। এই খবর পাওয়া মাত্রই শনিবার শামুকতলা থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল মালবাজারে অভিযান চালায় এবং সেখান থেকে ঝুমনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তার করার পর অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করে ঝুমন। এরপর তার বয়ানের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় এবং চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৬ গ্রাম ওজনের একটি সোনার চেন, আনুমানিক ৫ গ্রাম ওজনের এক জোড়া সোনার দুল, নগদ ২০,০০০ টাকা এবং একটি ভিভো কোম্পানির স্মার্টফোন।
অবশেষে রবিবার ধৃত অভিযুক্তকে আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করা হলে, বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশের এই তৎপরতায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শামুকতলা এলাকাবাসী।