নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, 13 এপ্রিল ২০২৬ :

নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ‘বাজলো ছুটির ঘণ্টা’—শব্দবন্ধটি প্রতিটি পড়ুয়ার কাছে চিরকালই আবেগের। কিন্তু সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এবার সেই আবেগে যুক্ত হলো আধুনিকতার ছোঁয়া। আলিপুরদুয়ারের জটেশ্বর এলাকার দুটি নামী বিদ্যালয়, জটেশ্বর হাইস্কুল ও জটেশ্বর গার্লস হাইস্কুল থেকে চিরতরে বিদায় নিল সাবেকি আমলের পিতলের ঘণ্টা। এখন থেকে ঢং ঢং আওয়াজের পরিবর্তে স্কুলের অলিন্দে শোনা যাবে অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের ঘোষণা।
কেন এই আধুনিকীকরণ?
বিদ্যালয় সূত্রে খবর, ২০১৬ সালে অশিক্ষক কর্মচারীদের বরখাস্তের নির্দেশের পর থেকেই স্কুলগুলোতে তীব্র কর্মী সংকট দেখা দেয়। জটেশ্বর গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সোমা দে জানান, স্কুলের নিজস্ব তহবিল থেকে চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করে এতদিন কাজ চালানো হচ্ছিল। কিন্তু এর ফলে তহবিলে টান পড়ছিল। এই কর্মী সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজতেই জটেশ্বর হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অমিত কুমার দত্ত অটোমেটিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেমের প্রস্তাব দেন, যা তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করা হয়।
কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?
দুই স্কুলের বিশাল চত্বরের প্রতিটি কোণায় বসানো হয়েছে শক্তিশালী মাইক। এটি একটি অ্যাপ-নির্ভর ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী প্রার্থনা, পিরিয়ড পরিবর্তন, মিড-ডে মিলের প্রস্তুতি এবং ছুটির ঘোষণা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেজে উঠবে। যান্ত্রিক ঘণ্টার একঘেয়ে আওয়াজের বদলে এখন থেকে সুরেলা মানবী কণ্ঠে ভেসে আসবে নির্দেশিকা। শিক্ষকদের মতে, এই নতুনত্ব পড়ুয়াদের আরও বেশি অনুপ্রাণিত ও শৃঙ্খলাপরায়ণ করে তুলবে।
সাড়া ফেলেছে এলাকায়:
মেদিনীপুরের একটি স্কুলের মডেল অনুসরণ করে আলিপুরদুয়ারে এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। স্কুল পরিচালনা কমিটির দ্রুত অনুমতি মেলায় বর্তমান শিক্ষাবর্ষ থেকেই এটি কার্যকর করা হয়েছে। সাবেকি ঘণ্টা হারিয়ে যাওয়ার কিছুটা নস্টালজিয়া থাকলেও, আধুনিক প্রযুক্তির এই ব্যবহারকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিভাবক থেকে শুরু করে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মহল। এর ফলে যেমন কর্মী সংকটের সুরাহা হলো, তেমনই উত্তরবঙ্গের শিক্ষা মানচিত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জটেশ্বরের এই দুই বিদ্যালয়।