বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যের উদ্যোগে ধ*র্ষ*ণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার | The 4th Column

বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যের উদ্যোগে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ১ এপ্রিল ‘ ২০২৫ :

সালিশি সভা — প্রতীকী ছবি

আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম ব্লকের ভলকা বারোবিশা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্যের বিরুদ্ধে এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই বিজেপি সদস্য একটি ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সালিশি সভার আয়োজন করেছিলেন। অভিযোগ, স্থানীয় একটি ক্লাবকেও এই সালিশি সভায় যুক্ত করা হয়েছিল। যদিও ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং ধর্ষিতার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভলকা বারোবিশা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের কাছেই একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্র (সিএসপি) রয়েছে। ওই সিএসপির লাইসেন্সধারী তপন দেবনাথের ( নাম পরিবর্তিত) বিরুদ্ধে সেখানেই কর্মরত এক মহিলা কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তপন দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে উত্ত্যক্ত করত এবং কুপ্রস্তাব দিত। তবে সংসার চালানোর জন্য কাজের প্রয়োজন থাকায় এবং কাজ হারানোর ভয়ে তিনি মুখ খুলতে সাহস পাননি।
সম্প্রতি, মহিলার স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে এবং বন্ধ ঘরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এরপর, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত তপন, বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যর দ্বারস্থ হন। অভিযোগ, ওই পঞ্চায়েত সদস্যের উদ্যোগেই সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত শিবডাঙ্গা মাঠে একটি সালিশি সভা বসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তপন দেবনাথ নগদ এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর, মঙ্গলবার নির্যাতিতা মহিলা কুমারগ্রাম থানার বারবিশা পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে , ঘটনার পর প্রায় আড়াই মাস ধরে কেন নির্যাতিতা এতদিন মুখে কুলুপ এঁটে ছিলেন , এই প্রশ্নও ঘোরাফেরা করছে জনমানসে। পাশাপশি, একজন নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!