নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৮ এপ্রিল ২০২৬ :

আলিপুরদুয়ার, ৮ এপ্রিল ২০২৬: উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত শহর আলিপুরদুয়ার। কিন্তু এই শহরের বুক চিরে চলে যাওয়া রেলপথ কি শেষ পর্যন্ত মৃত্যুপথে পরিণত হয়েছে? বুধবার বেলা ১১টা ৫ মিনিট নাগাদ আলিপুরদুয়ার শহরের ইটখোলা -লেবু বাগান এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা পুনরায় সেই প্রশ্ন তুলে দিল। ডাউন বামনহাট-শিলিগুড়ি প্যাসেঞ্জারের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন আলিপুরদুয়ার আর আর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষিকা সমাপ্তিকা আচার্য (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিড-ডে মিলের বাজার সেরে রেললাইন পার হয়ে স্কুলে ফিরছিলেন ওই শিক্ষিকা। সেই সময় ঝড়ের গতিতে ধাবমান ট্রেনের ধাক্কায় তিনি অনেকটা দূরে ছিটকে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জিআরপি ইন্সপেক্টর অনুপ ঘোষের মতে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ওই শিক্ষিকা কিছুটা আনমনা হয়ে লাইন পার হচ্ছিলেন। উপস্থিত অনেকে সতর্ক করলেও তা তাঁর কানে পৌঁছায়নি। স্থানীয় একটি সূত্র বলছে , তাঁর কানে মোবাইল ফোন ছিল ।
আলিপুরদুয়ার জংশন থেকে নিউ কোচবিহারগামী এই ৭ কিলোমিটার রেলপথে নর্থ পয়েন্ট থেকে বাবুপাড়া পর্যন্ত মোট ৯টি ম্যান্ড লেভেল ক্রসিং এবং অসংখ্য আনম্যান্ড ক্রসিং রয়েছে। অভিযোগ, ঘিঞ্জি জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং স্কুল-হাসপাতালের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ও ট্রেনের গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। বুধবারের এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শহরবাসী।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী রেলের উদাসীনতাকে দায়ী করে সরব হয়েছেন। তিনি বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “রেলপথ সরানোর গালভরা আশ্বাস কোথায় গেল? বাস্তবে কাজ হলে এই অকাল মৃত্যু দেখতে হতো না।” অন্যদিকে, সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা পালটা জবাবে জানান, রেলপথটি বিকল্প জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রেলকে দেওয়া হয়েছে এবং সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।”
তবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—প্রতিদিন হাজার হাজার পড়ুয়া ও নাগরিক যেখানে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে লাইন পারাপার করেন, সেখানে কেন পুলিশ বা সিভিক ভলান্টিয়ারের নিরাপত্তা নেই? কেন জনবহুল এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই রেলের? আলিপুরদুয়ারবাসী এখন কেবলই দিন গুনছেন, কবে এই ‘মরণফাঁদ’ থেকে মুক্তি পাবে তাঁদের শহর।