জারুল রাভা, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২৪ মে ২০১৬:
জেলা জুড়ে টোটো এবং ই-রিক্সায় অবৈধ পণ্য পরিবহন রুখতে এবার কড়া অবস্থান গ্রহণ করল আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে টোটোতে অতিরিক্ত ও ভারী পণ্য পরিবহনের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর এই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, টোটো বা ই-রিক্সা শুধুমাত্র যাত্রী পরিবহনের জন্যই অনুমোদিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এক শ্রেণির টোটো চালক সেই নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করে সামান্য কিছু অতিরিক্ত উপার্জনের লোভে মারাত্মক ঝুঁকি নিচ্ছেন। শহরের ব্যস্ত রাস্তা হোক বা গ্রামীণ জনপদ—সর্বত্রই টোটোতে সিমেন্টের বস্তা থেকে শুরু করে ভারী লোহার রড অনায়াসেই বহন করা হচ্ছে। এর ফলে টোটোর ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে প্রায়শই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন চালক, যাত্রী এবং সাধারণ পথচারীরা। ট্রাফিক আইনকে এভাবে দিনের পর দিন লঙ্ঘন করা মেনে নিতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন।
তবে পুলিশ প্রশাসন এখনই কোনো কড়া শাস্তিমূলক পদক্ষেপে যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে জেলার প্রতিটি থানা এবং পুলিশ ফাঁড়ির অন্তর্গত টোটো ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে টোটোতে পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করার আর্জি জানাবে পুলিশ। পুলিশ কর্তারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই সতর্কবার্তায় যদি কোনো কাজ না হয় এবং চালকরা যদি নিজেদের সংশোধন না করেন, তবে পরবর্তীতে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে প্রশাসন।
প্রশাসনের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ার জেলায় বর্তমানে কয়েক হাজার টোটো চলাচল করে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী জেলা কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি থেকেও প্রতিদিন বহু টোটো এই জেলায় প্রবেশ করে। এই প্রসঙ্গে জেলা পুলিশের ট্রাফিক ডিএসপি শান্তনু তরফদার জানিয়েছেন, “কারোর পেটে লাথি মারার উদ্দেশ্য আমাদের নেই। তবে টোটোতে আইন ভেঙে পণ্য পরিবহন করতে দেওয়া হবে না। সেই যুক্তিকে মাথায় রেখে আমরা প্রাথমিক অবস্থায় টোটো ইউনিয়নগুলির সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি সবার সহযোগিতা মিলবে।”