আলিপুরদুয়ারে দুই নাবা লিকাকে শ্লীল তাহানি: পুলিশের জালে দুই প্রতিবেশী প্রৌঢ়, চাঞ্চল্য জেলাজুড়ে | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৯ মে ২০২৬ :

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের উঠল বড়সড় প্রশ্ন। পৃথক দুটি ঘটনায় দুই নাবালিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম টনাতন দাস (৫১) এবং সনিন্দ্র সূত্রধর (৪৫)( উভয়ের নাম পরিবর্তিত)। চাঞ্চল্যকর এই দুটি ঘটনা ঘটেছে আলিপুরদুয়ার জংশন এবং শামুকতলা থানা এলাকায়।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে আলিপুরদুয়ার জংশন সংলগ্ন নেতাজি বিদ্যাপীঠের এক ছাত্রীর সঙ্গে। পুলিশ সূত্রে খবর, বছর ১৫-র ওই নাবা লিকা সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় থেকেই অভিযুক্ত টনাতন দাস তার পিছু নিচ্ছিল। স্কুল ছুটির পর বিকেলে মেয়েটি যখন সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল, সেই সময় নির্জন রাস্তায় তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় অভিযুক্ত। অভিযোগ, নাবালিকার ওপর চড়াও হয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ওই প্রৌঢ়। নির্যাতিতার চিৎকার শুনে পথচারী ও তার ভাই ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে আলিপুরদুয়ার মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকার বাবা। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে শামুকতলা থানা এলাকায়। সেখানে ১৬ বছরের এক নাবালিকা বাড়িতে একা থাকাকালীন প্রতিবেশী সনিন্দ্র সূত্রধর জল খাওয়ার নাম করে ঘরে ঢোকে। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে সে কিশোরীকে জাপটে ধরে অশালীন আচরণ শুরু করে বলে অভিযোগ। মেয়েটির আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা জড়ো হলে এলাকা ছাড়ে অভিযুক্ত। এই ঘটনায় শামুকতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার মা, যার রেশ ধরে পুলিশ অভিযুক্তকে পাকড়াও করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দুই আসামির বিরুদ্ধেই পকসো (POCSO) আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার ধৃতদের আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। জেলার দুটি পৃথক প্রান্তে পরপর এই ধরণের ঘটনায় নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসন জানিয়েছে, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!