অনলাইন বুকিং বন্ধ: উত্তরবঙ্গের পর্যটনে বড় ধাক্কা, ক্ষুব্ধ পর্যটক ও ব্যবসায়ী মহল | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২০ মে ২০২৬ :

অনলাইন বুকিং বন্ধ: উত্তরবঙ্গের পর্যটনে বড় ধাক্কা, ক্ষুব্ধ পর্যটক ও ব্যবসায়ী মহল
বিশেষ প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার:
বিগত প্রায় ১৬ মাস ধরে উত্তরবঙ্গের জাতীয় উদ্যান এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যগুলিতে কার সাফারির (Car Safari) জন্য অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পে এক চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। পর্যটন ব্যবসায়ী ও অংশীদ্বারেরা (Stakeholders) আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী দিনে ডুয়ার্সে পর্যটকদের আনাগোনা মারাত্মকভাবে কমে যাবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্যুর অপারেটরেরা আজ, ২০ মে শিলিগুড়ি সফররত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জলদাপাড়া ও গরুমারা জাতীয় উদ্যানের মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে অনলাইন বুকিং বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে একদল দালাল বা মিডলম্যান সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে পর্যটকেরা চরম হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং টিকিট বুকিং নিয়ে প্রায়শই বচসা ও অশান্তির পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যেখানে একটি সাফারি গাড়ির আসল ভাড়া প্রায় ১,৭৫০ টাকা, সেখানে দালালদের মাধ্যমে টিকিট কাটতে পর্যটকদের ৪,০০০ টাকারও বেশি গুণতে হচ্ছে। এমনকি অনেক পর্যটককে সাফারির টিকিট পাওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দিন হোটেলে কাটাতে হচ্ছে, যা তাঁদের ভ্রমণ বাজেট এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দিল্লি থেকে সপরিবারে জলদাপাড়ায় ঘুরতে আসা ঋষিরাজ গুহ জানান, লাইনে দাঁড়িয়েও তাঁরা সাফারির টিকিট পাননি। উল্টে কিছু যুবক লাইন থেকে টিকিট বুক করে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা দাবি করে। বাধ্য হয়ে তাঁদের আরও একদিন অপেক্ষা করতে হয়। ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির যুগ্ম সম্পাদক বিপ্লব দে জানান, নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কারণে মার্চ ও এপ্রিল মাসে পর্যটন ব্যবসা এমনিতেই মার খেয়েছে। মে মাসে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করলেও অফলাইন টিকিট ব্যবস্থার কারণে তাঁরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। আগামী ১৬ জুন থেকে বর্ষাকালীন মরশুমের জন্য জঙ্গল তিন মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে, তার আগে এই অব্যবস্থা ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি করছে।
জলদাপাড়া ও গরুমারা জাতীয় উদ্যানে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি করে জিপ ৪টি ট্রিপে প্রায় ৭০০ জন পর্যটককে সাফারি করায়। পর্যটন মহলের দাবি, আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের একটি প্রশাসনিক সভার পর থেকেই এই অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা রহস্যজনকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তৎকালীন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালও এর আগে এই সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এই বিষয়ে জলদাপাড়ার সহকারী বন্যপ্রাণী ওয়ার্ডেন নবীকান্ত ঝা জানিয়েছেন, সমস্যাটি সম্পর্কে তাঁরা অবগত এবং বিষয়টি ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হাতে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!