নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২২ মে ২০২৬ :

২ দিন নিখোঁজ থাকার পর ধানক্ষেত থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার পচাগলা দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য আলিপুরদুয়ারে
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে বাড়ির কাছের একটি ধানক্ষেত থেকে এক বৃদ্ধার পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হলো। মৃত মহিলার নাম সোনেকা রায় (৬৭)। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার থানার চন্ডির ঝাড়, জোড়া পাকড়ি এলাকায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত সোনেকা দেবী বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ মানসিক হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। এর আগেও তিনি বহুবার বাড়ি থেকে না বলে কোথাও চলে গিয়েছিলেন। তবে প্রতিবারই পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন।
মৃতার ছেলে জানান, গত বুধবার বিকেল ৪টে নাগাদ সোনেকা দেবী হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। সেই সময় চারপাশ জঙ্গলে ঘেরা থাকায় এবং দ্রুত অন্ধকার নেমে আসায় সেদিন পরিবারের পক্ষে বেশিদূর খোঁজাখুঁজি করা সম্ভব হয়নি। এরপর বৃহস্পতিবার সারাদিন ধরে তাঁরা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান চালালেও সোনেকা দেবীর কোনো খোঁজ মেলেনি। অবশেষে শুক্রবার দুপুর ৩টে নাগাদ বাড়ির কাছের একটি ধানক্ষেতের মধ্যে সোনেকা দেবীর পচাগলা দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁর ছেলে।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মৃতার ছেলের বয়ান অনুযায়ী, সোনেকা দেবী মানসিক রোগী হলেও বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর ওষুধ বন্ধ ছিল। তুফানগঞ্জ মানসিক হাসপাতালে তাঁরা গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে ওষুধের স্টক না থাকায় তাঁরা ওষুধ খাওয়াতে পারেননি।
পাশাপাশি গত বুধবার সকাল থেকেই সোনেকা দেবীর শরীর ভালো ছিল না এবং তিনি সারাদিন কিছুই খাননি। পরিবারের অনুমান, খালি পেটে অসুস্থ শরীরে বাড়ি থেকে বেরনোর পর তিনি হয়তো আরও অসুস্থ বোধ করেন এবং ধানক্ষেতের মধ্যে পড়ে যান। সেখান থেকে আর উঠতে না পারায় মাঠের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হবে।