চা শ্রমিকদের পিএফ তহবিলে কোটি কোটি টাকা জালিয়াতি, কাঠগড়ায় মথুরা চা বাগান কর্তৃপক্ষ
নিউজ ডেস্ক,দ্যা ফোর্থ কলাম,আলিপুরদুয়ার, ২৬শে মার্চ ২০২৫:-

আলিপুরদুয়ারের মথুরা চা বাগানের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চা শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করলো জলপাইগুড়ির রিজিওনাল প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) বিভাগ। মঙ্গলবার রাতে আলিপুরদুয়ার থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পিএফ কমিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, মথুরা চা বাগান কর্তৃপক্ষ দুই দফায় শ্রমিকদের বেতন থেকে মোট ২ কোটি ৪২ লক্ষ ১৪ হাজার ৬০২ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডের জন্য কেটে নিলেও সেই অর্থ পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করেনি। এর ফলে বাগানটির প্রায় ১৪০০ জন শ্রমিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই মথুরা চা বাগানে পিএফ জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সরব ছিলেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলি। প্রতারিত চা শ্রমিকরা মাঝেমধ্যেই গেট মিটিংয়ের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে খোদ পিএফ কমিশনারের পক্ষ থেকে বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ায় শ্রমিকদের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হল।
আইএনটিটিইউসির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিনোদ মিঞ্জ এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মথুরা চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পিএফের টাকা নয়ছয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলাম। পিএফ কমিশনার এফআইআর করায় আমাদের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হল।”
যদিও এই এফআইআর প্রসঙ্গে মথুরা চা বাগানের ম্যানেজার বিক্রম সিং কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে মন্তব্য করা আমার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।”
জলপাইগুড়ির রিজিওনাল প্রভিডেন্ট ফান্ড কমিশনার পবন কুমার বনসাল জানান, “মথুরা চা বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি থেকে কোটি কোটি টাকা কেটে নিলেও পিএফের টাকা জমা করেননি। এই জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে আমরা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।”
পিএফ কমিশনারের এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার শিকার হওয়া মথুরা চা বাগানের শ্রমিকরা কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্তে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ঘটনা অন্যান্য চা বাগান কর্তৃপক্ষকেও কর্মীদের পিএফ তহবিলের ব্যাপারে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে বার্তা দেবে বলেই মনে করছেন শ্রমিক মহল।