নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২০ মে ২০২৬ :

বাইসন বাঁচাতে গিয়ে ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়েতে উল্টে গেল পণ্যবাহী লরি, ক্ষুব্ধ পরিবেশপ্রেমীরা
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: সাতসকালে বন্যপ্রাণী বাঁচাতে গিয়ে বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি পণ্যবাহী লরি। বুধবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট থানার অন্তর্গত ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের তোর্সা ও হলং সেতুর মাঝখানের রাস্তায়। লরিটি উল্টে নয়ানজুলিতে পড়ে গেলেও চালকের তৎপরতায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছে একটি বন্য বাইসন। এই ঘটনায় লরির চালক ও খালাসি সামান্য চোট পেয়েছেন।
বন দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের উত্তর রেঞ্জের হাসিমারা ২ কম্পার্টমেন্টের জঙ্গল সংলগ্ন ওই রাস্তায় বুধবার সকালে আচমকাই একটি বাইসন চলে আসে। লরিটি সেই সময় অসমের গুয়াহাটি থেকে মাল বোঝাই করে কলকাতার দিকে যাচ্ছিল। গতিশীল লরিটির সামনে আচমকা বাইসনটি চলে আসায় বন্যপ্রাণীটিকে বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা করেন চালক। বাইসনটিকে কোনোক্রমে এড়িয়ে গেলেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটি জঙ্গল সংলগ্ন নয়ানজুলিতে উল্টে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বনকর্মী ও মাদারিহাট থানার পুলিশ। লরিটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বনকর্তারা জানিয়েছেন, চালকের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে বাইসনটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। সামান্য আহত চালক ও খালাসিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা। মাদারিহাটের বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী সুপেন দাস এই বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি যে বনাঞ্চলের বুক চিরে চলে যাওয়া এই হাইওয়েতে গাড়িগুলির গতিবেগ নিয়ন্ত্রণ করা হোক। কিন্তু প্রশাসনের সেদিকে কোনো হেলদোল নেই। নজরদারির অভাবেই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন এই ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়েতে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। কখনো বন্যপ্রাণী, আবার কখনো মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট বোর্ড বা স্পিড ব্রেকার থাকলেও চালকেরা তা মানেন না। বন ও পুলিশ প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ না মিললে আগামীদিনে জলদাপাড়ার অবলা বন্যপ্রাণীদের জীবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশকর্মীরা।