নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

হোটেল কর্মীর রহস্যমৃত্যু: ফরেন্সিক তদন্তের সাথে আরও এক গ্রেফতার, উত্তপ্ত মাদারিহাট
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: মাদারিহাটের দলদলিতে হোটেল কর্মী সুখেশ ওঁড়াওয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য অব্যাহত। বুধবার সকালে এই মামলায় সরিফুল ইসলাম নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত যুবক ওই হোটেলের মালিক সইদুল মিঁয়ার ছেলে। উল্লেখ্য, সইদুলকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বুধবারই ধৃত সরিফুলকে আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের ধারের ওই হোটেলের পাশের একটি ঘর থেকে ১৯ বছর বয়সী সুখেশের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। গোপালপুর চা বাগানের চাপরাশি লাইনের বাসিন্দা সুখেশ দীর্ঘ দিন ধরে ওই হোটেলে কাজ করতেন। পরিবারের অভিযোগ, সুখেশকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। উত্তেজিত জনতা হোটেলে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাদারিহাট, জয়গাঁ ও বীরপাড়া থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।
তদন্তের স্বার্থে বুধবার ছয় সদস্যের একটি ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা হোটেলের বিভিন্ন অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। যদিও তদন্তের গোপনীয়তা রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেননি ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, মঙ্গলবারই আদিবাসী সামাজিক সংগঠনগুলি মাদারিহাট থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। তবে পুলিশের বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার খাণ্ডবাহালে উমেশ গণপত জানিয়েছেন, “বুধবার ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।” বর্তমানে পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।