নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৯ মে ২০২৬ :

রাজনৈতিক অস্থিরতার কোপ: আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটায় বন্ধ হচ্ছে মা ক্যান্টিন
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ঢেউ এবার আছড়ে পড়ল গরিব মানুষের পকেটে। আলিপুরদুয়ার জেলায় সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত ‘মা ক্যান্টিন’ পরিষেবা থমকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ। ফালাকাটা পুরসভার দুটি ক্যান্টিন ইতিমধ্যেই শনিবার থেকে তালাবন্ধ হয়ে গেছে, অন্যদিকে আলিপুরদুয়ার পুরসভার দুটি ক্যান্টিনও বন্ধ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ পুর-চেয়ারম্যান।
করোনা আবহে সাধারণ মানুষের মুখে সস্তায় পুষ্টিকর খাবার তুলে দিতে শুরু হয়েছিল এই প্রকল্প। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে মিলত ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম। আলিপুরদুয়ার ও ফালাকাটা—এই দুই পুরসভা এলাকা মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মানুষ এই পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। ফালাকাটা পুরসভার চেয়ারম্যান অভিজিৎ রায়ের দাবি, চাল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই তাঁরা ক্যান্টিন চালাতে পারছেন না। তবে রাজনৈতিক মহল এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নয়। আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ করের মতে, এটি কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়, রাজ্যের অন্যান্য অনেক জায়গায় ক্যান্টিন বন্ধ হওয়ার রেশ ধরেই এখানেও পরিষেবা বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যদিও পর্দার আড়ালের চিত্রটা ভিন্ন। সম্প্রতি রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর জেলাজুড়ে শাসক শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কাজ করার উৎসাহে ভাটা পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা তৃণমূল নেতার কথায়, রাজ্যে ও জেলায় দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়ায় সরকারি প্রকল্পগুলি সচল রাখার মানসিকতা হারিয়েছেন কর্মীরা।
এই টানাপোড়েনের বলি হচ্ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। গ্রাম থেকে শহরে কাজে আসা শ্রমিক, রিকশাচালক ও ভবঘুরেদের কাছে এই ৫ টাকার খাবারই ছিল দিনশেষে বড় ভরসা। ফালাকাটায় পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় শনিবার থেকেই বহু মানুষকে অভুক্ত থাকতে দেখা গেছে। আলিপুরদুয়ারের ক্যান্টিন দুটিও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে জেলার খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক সহায়তার এই বড় স্তম্ভটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে। প্রশাসনিক জটিলতা নাকি রাজনৈতিক উদাসীনতা—কারণ যাই হোক না কেন, চূড়ান্ত সংকটে এখন আলিপুরদুয়ারের কয়েকশো দরিদ্র পরিবার। যারা অন্তত একবেলা করে হলেও পেটপুরে খাবার পেতেন মা ক্যান্টিনে।