একতরফা প্রেমের চরম পরিণতি, আলিপুরদুয়ারে প্রেয়সীর স্বামীকে খুনের অপরাধে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২২ মে ২০২৬ :

একতরফা প্রেমের নৃ শংস পরিণতি: প্রেয়সীর স্বামীকে খুনের অপরাধে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: একতরফা প্রেমের এক ভয়ানক ও নৃশংস পরিণতির সাক্ষী থাকল আলিপুরদুয়ার। বিবাহিত এক মহিলাকে নিজের করে পাওয়ার অন্ধ মোহে তাঁর স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করার অপরাধে অবশেষে সাজা পেল দোষী। ২০০৮ সালের এক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সুফল মহালিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আলিপুরদুয়ার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। একইসঙ্গে আদালত তাকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। আলিপুরদুয়ার আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক প্রত্যয়ী চৌধুরী এই ঐতিহাসিক রায় দান করেন।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৮ সালের ২২শে আগস্ট, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৫টা নাগাদ, শামুকতলা থানার অন্তর্গত কোহিনুর অঞ্চল অফিসের কাছে শালঢোরা এলাকায়। নিহত কাঞ্চন মাহালির স্ত্রী সুদনি মাহালিকে একতরফা ভালোবাসত অভিযুক্ত সুফল মহালি। সুদনিকে পাওয়ার পথে একমাত্র কাঁটা ছিল তার স্বামী কাঞ্চন। তাই কাঞ্চনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নৃশংস পরিকল্পনা করে সুফল। ঘটনার দিন বিকেলে শামুকতলা বাজার থেকে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন কাঞ্চন ও সুদনি। শালঢুরা এলাকায় ওত পেতে থাকা সুফল হঠাৎই তাঁদের পথ আটকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি ধারালো ভোজলি নিয়ে কাঞ্চনের ওপর চড়াও হয়ে সে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। নৃশংসতার চরম সীমায় পৌঁছে কাঞ্চনের বুকের পাঁজরে ভোজলিটি ঢুকিয়ে দেয় সে। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত্যু হয় কাঞ্চনের।
স্বামীর এই অবস্থা দেখে সুদনি মাহালি চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় খুনি সুফল। এরপর সুদনি মাহালি শামুকতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং মাত্র ৩ মাসের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
তবে আইনি প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সুদনিকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে সুফলের অনুগামীরা। ভয়ে তিনি সুদূর দিল্লিতে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে শামুকতলা থানার পুলিশ সম্পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে দীর্ঘদিন পর তিনি আদালতে এসে বয়ান রেকর্ড করেন। মামলায় সরকার পক্ষে মোট ১৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সরকারি আইনজীবী অমরেন্দ্র নাথ রায় এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, “দীর্ঘদিন পর হলেও অপরাধী যোগ্য শাস্তি পেয়েছে। এই রায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে।”

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!