কানাই পাসওয়ান মৃ ত্যু মামলা: আরও ১ গ্রেফতার, অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত | The 4th Column

মাদক চক্রের জেরে প্রাণহানি? আলিপুরদুয়ারে কানাই পাসওয়ান মৃত্যু মামলায় ধৃত আরও ১, এখন অবধি গ্রেফতার ৭
​নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ১ মে ২০২৬ :-

— ক্রমশ জাল গোটাচ্ছে আলিপুরদুয়ার থানা, এখন অবধি গ্রেফতার ৭

আলিপুরদুয়ারের ইটখোলা বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় কানাই পাসওয়ানের রহস্যজনক মৃত্যু মামলায় ফের সাফল্য পেল জেলা পুলিশ। গত ২৪ এপ্রিল ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তদন্তে নেমে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম বিরাজ পাসওয়ান (২৩)( নাম পরিবর্তিত)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউ আলিপুরদুয়ারের ভারত নগর এলাকা থেকে তাকে জালে তোলা হয়। ধৃত যুবক আলিপুরদুয়ারের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ইটখোলা এলাকারই বাসিন্দা। এই নিয়ে কানাই পাসওয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় মোট সাতজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত ২৩ এপ্রিল রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন কানাই পাসওয়ান। ২৪ এপ্রিল সকালে ইটখোলা বাঁধের ধারে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ ছিল, কানাইয়ের বন্ধুরা তাকে রাতে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে পরিকল্পনা করে খুন করেছে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই অঞ্চলে মাদকের রমরমা কারবার চলছে এবং প্রশাসনের একাংশ সব জেনেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
পুলিশি তৎপরতা ও মামলা:
কানাইয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারী অফিসারদের তরফে সরাসরি জানা না গেলেও, সূত্রের খবর, এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত একটি নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে যেখানে আরও ৬ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। অর্থাৎ, মূল চক্রটি বেশ বড়। ধৃতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই মাদক সেবন ও কারবারের সাথে যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। ধৃত বিরাজ পাসওয়ানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ:
শুক্রবার ধৃতকে আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করা হলে বিচারক মামলার গুরুত্ব বিচার করে তাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ মনে করছে, বিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চক্রের বাকি পান্ডাদের হদিশ এবং কানাইয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসবে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং মাদক কারবার রুখতে ইতিমধ্যেই পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!