নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ :

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই আলিপুরদুয়ারের রাজনীতিতে ফের স্বমহিমায় অবতীর্ণ হয়েছেন ডুয়ার্সের চা বলয়ের ‘রবিনহুড’ মোহন শর্মা। দীর্ঘ পাঁচ বছর নেপথ্যে থেকে রাজনীতির ছক্কাপাঞ্জা কষার পর, প্রত্যক্ষ রাজনীতির ময়দানে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। গত মার্চ মাসে গেরুয়া শিবির তাঁকে রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই কালচিনির ‘ওয়ার রুমে’ শুরু হয়েছে চূড়ান্ত রণকৌশল নির্ধারণ।
মোহন শর্মা মানেই এক বর্ণময় রাজনৈতিক ইতিহাস। বাম আমলে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাজনৈতিক উত্থান। একসময় কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতি শুরু করলেও ২০১১-র পালাবদলের পর তৃণমূলের জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের মেন্টর হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তবে ২০২১-এর নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তন করে বিজেপিতে যোগ দেন এই ঝানু জননেতা। মাঝে স্ত্রীর দীর্ঘ অসুস্থতা ও প্রয়াণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমান নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চায়ের অলিন্দে আধিপত্য ফেরাতে মরিয়া গেরুয়া শিবির।
কালচিনির পারিবারিক পেট্রল পাম্পের পেছনের অফিসটিই এখন মোহনের প্রধান কার্যালয়। সকালের দীর্ঘ পুজাপাঠ সেরে সেখানেই চলছে দলীয় কর্মীদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ কালচিনি কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী বিশাল লামাকে বড় ব্যবধানে জয়ী করা। কারণ, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বীরেন্দ্র বড়া ওঁরাওকে প্রার্থী করে বিজেপির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রজ্ঞার নিরিখে বিরোধীরাও মোহন শর্মাকে যথেষ্ট সমীহ করে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি প্রকাশ চিকবড়াইক স্পষ্ট জানিয়েছেন, মোহন শর্মার অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। অন্যদিকে, জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মোহন শর্মা জানান, “যখন যে দলে কাজ করেছি, নিজের ১০০ শতাংশ দিয়েছি। আমার নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই, লক্ষ্য কেবল জেলার পাঁচটি আসনেই দলের জয় নিশ্চিত করা।” ডুয়ার্সের চায়ের পাতায় এখন শুধুই ‘ভোটের সেনাপতি’ মোহনের কামব্যাকের চর্চা।