নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৭ মে ২০২৬ :

ট্রফি জয়ের আনন্দ বদলে গেল মহাশোকে! বীরপাড়ায় নদীতে ডুবে নাবালকের মর্মান্তিক মৃত্যু।
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: ফুটবল ম্যাচ জিতে ট্রফি পাওয়ার অনাবিল আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে রূপ নিল চরম বিষাদে। বন্ধুদের সাথে জয়ের আনন্দ উদ্যাপন করতে গিয়ে নদীতে ডুবে প্রাণ হারাল আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ার এক সম্ভাবনাময় কিশোর ফুটবলার। মৃত নাবালকের নাম সোনাম কামি (১৫)। সে তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা দলগা বীরপাড়া এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনাম ফুটবল খেলতে অত্যন্ত ভালোবাসত। গত পরশু স্থানীয় একটি ফুটবল ম্যাচে সোনামের দল দুর্দান্ত পারফর্ম করে জয়লাভ করে। পুরস্কার হিসেবে ট্রফির পাশাপাশি বেশ কিছু নগদ টাকাও জেতে তারা। সেই ট্রফি জয়ের আনন্দ উদ্যাপন করতেই সব বন্ধুরা মিলে পিকনিকের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা মতো গতকাল, শনিবার সোনাম ও তার বন্ধুরা বীরপাড়ার একটি স্থানীয় নদীর ধারে পিকনিক করতে গিয়েছিল।
নদীর পাড়ে যখন অন্যান্য বন্ধুরা রান্নাবান্না এবং বাকি কাজে ব্যস্ত ছিল, ঠিক তখনই সোনাম ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে নদীতে স্নান করতে নামে। কিন্তু স্নান করার সময় আচমকাই গভীর জলে তলিয়ে যেতে শুরু করে সোনাম। সোনামকে তলিয়ে যেতে দেখে তার সাথে থাকা বন্ধুরা চিৎকার শুরু করলেও, সাঁতার না জানার কারণে চোখের সামনে বন্ধুকে তলিয়ে যেতে দেখেও তারা টেনে তুলতে পারেনি। চিৎকার শুনে নদীর পাড়ে থাকা বাকি বন্ধু ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে দ্রুত নদীতে নেমে সোনামকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তৎক্ষণাৎ তাকে বীরপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জানা গিয়েছে, সোনামের বাবা ও মা কর্মসূত্রে ব্যাঙ্গালোরে থাকেন। ছোটবেলা থেকেই সে বীরপাড়ায় তার দাদু ও ঠাকুমার কাছে থেকে বড় হচ্ছিল। একমাত্র নাতিকে হারিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন বৃদ্ধ দাদু-ঠাকুমা। আজ, রবিবার সোনাম কামির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একটি ম্যাচ জয়ের আনন্দ যে এভাবে এক কিশোরের জীবন কেড়ে নেবে, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর খেলার সাথী ও প্রতিবেশীরা।