জয়গাঁর মিষ্টির দোকান থেকে তিন শিশু শ্রমিক উদ্ধার, গ্রেপ্তার মালিক
নিউজ ডেস্ক, , দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ –
শিশুশ্রম বিরোধী আইনে বড়সড় সাফল্য পেলেন আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে জয়গাঁর একটি মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে তিনজন শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে দুজনের বাড়ি বিহারে এবং একজনের জয়গাঁয়। তাদের গড় বয়স মাত্র ১১ বছর। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই শিশুদের জোরপূর্বক এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করানো হচ্ছিল।
শুক্রবার সকালে জেলা সমাজ কল্যাণ দফতর, শ্রম দফতর, শিশু কল্যাণ কমিটি (CWC) এবং পুলিশ যৌথভাবে ওই মিষ্টির দোকানে হানা দেয়। জানা গেছে, দোকান মালিক শিশু আইনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এই শিশুদের দিয়ে দিন-রাত কাজ করাচ্ছিলেন। এমনকি, তাদের খাবার এবং থাকার জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হতো না। অভিযোগ রয়েছে, শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হতো।
অভিযানের পর জয়গাঁ শহরে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধারের পর তিন শিশুকে জলপাইগুড়ির কোরোক সরকারি হোমে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাদের বয়ান রেকর্ড করা হবে এবং নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শিশুদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিষ্টির দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত মালিকের নাম ও পরিচয় আপাতত গোপন রাখা হয়েছে।
জয়গাঁ থানার আইসি পালজের শেরিং ভুটিয়া বলেন, “জেলা প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ পেয়ে আমরা এই তিন শিশুকে উদ্ধার করে CWC-এর হাতে তুলে দিয়েছি।” CWC-এর চেয়ারম্যান অসীম বোস এই প্রসঙ্গে বলেন, “শিশুশ্রম একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা জানতে পারি যে জয়গাঁর ওই দোকানে সামান্য মজুরির বিনিময়ে শিশুদের দিয়ে আইন ভেঙে কাজ করানো হচ্ছিল। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়েছি। তদন্তের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসন শিশুদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে শিশু আইন লঙ্ঘন করলে প্রশাসন কোনোভাবেই তা বরদাস্ত করবে না।