ভোট মিটতেই খাঁ খাঁ করছে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়, উধাও হেভিওয়েট নেতারা! The 4th Column

জারুল রাভা, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ১৪ মে ২০২৬ ;-

— বড় শূন্য শূন্য দিন ! জনমানুষহীন তৃণমূল জেলা পার্টি অফিস

ঠিক দশ দিন আগেও যে পার্টি অফিসে ছিল গমগমে ভিড় আর মন্ত্রী-সান্ত্রীদের হুটারের আওয়াজ, আজ সেখানে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি আসনেই ধরাশায়ী হওয়ার পর কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে কলেজ হল্টের তৃণমূল জেলা কার্যালয়। তৃণমূল স্তরের কর্মীদের অভিযোগ, বিপর্যয়ের এই সময়ে ‘আগুন ঝরানো’ নেতাদের আর দেখা মিলছে না।
​সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে জেলা সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিকবড়াইকের ভূমিকা নিয়ে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আজ পর্যন্ত পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণে কোনো পর্যালোচনা সভা ডাকেননি তিনি। এমনকি ফালাকাটা বা পাঁচ মাইলের মতো এলাকায় দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের খবর এলেও, সেখানে আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি তাকে। দলের অন্দরেই এখন গুঞ্জন—সেনাপতিই যদি রণক্ষেত্র ছেড়ে ঘরে বসে থাকেন, তবে সাধারণ কর্মীদের মনোবল ফিরবে কীভাবে?
​বিপরীতে জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কর্মীদের পাশে ছুটে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। সমন্বয়হীনতার কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, “কেন জেলা সভাপতি সভা ডাকছেন না তা তিনিই বলতে পারবেন। আমি তো বিপদে পড়া কর্মীদের কাছে যাচ্ছি।” একই সুর শোনা গেল রাজ্য সম্পাদক মৃদুল গোস্বামীর গলায়। তিনি জানিয়েছেন, দ্রুত বৈঠক ডাকার পরামর্শ তিনি দিয়েছেন সভাপতিকে।
​যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে প্রকাশ চিকবড়াইক জানিয়েছেন, তিনি কোথাও যাননি, বাড়ি থেকেই দলের কাজ সামলাচ্ছেন। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের জেলা সভাপতি মিঠু দাসের দাবি, পরাজয়ের পর তৃণমূল নেতাদের আর বাইরে বেরোনোর মুখ নেই। সব মিলিয়ে, হারের ধাক্কায় আলিপুরদুয়ার তৃণমূলে এখন চরম বিশৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের অভাব প্রকট।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!