পুড়লেও ফুরিয়ে যায়নি ঐতিহ্য: নতুন রূপে ফিরছে জলদাপাড়ার হলং বাংলো, শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

পুড়লেও ফুরিয়ে যায়নি ঐতিহ্য: নতুন রূপে ফিরছে জলদাপাড়ার হলং বাংলো, শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি পর্যটনের মুকুটমণি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ফিরে পেতে চলেছে তার হারিয়ে যাওয়া রত্নকে। ২০২৪ সালের সেই অভিশপ্ত অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক হলং বন বাংলোর পুনর্নির্মাণের কাজ অবশেষে শুরু হতে চলেছে। আজ একটি রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি এই পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
স্বাধীনতার পর ১৯৫০-এর দশকে নির্মিত এই বাংলোটি ছিল জলদাপাড়ার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। গভীর জঙ্গলের নিস্তব্ধতা আর সল্ট লিক-এ বন্যপ্রাণীদের আনাগোনা দেখার জন্য পর্যটকদের প্রথম পছন্দই ছিল এই ‘হলং’। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বহু ভিভিআইপি থেকে শুরু করে সাধারণ প্রকৃতিপ্রেমীদের সাক্ষী থেকেছে এই কাঠের বাংলোটি। কিন্তু গত বছর এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে বাংলোটি প্রায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় পর্যটন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
প্রকল্পের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
বন দপ্তর সূত্রে খবর, নতুন বাংলোটি পুরনো স্থাপত্যের নির্যাস বজায় রেখেই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে তৈরি করা হবে। প্রতি বছর জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে প্রায় ১,১০,০০০ পর্যটক ভিড় জমান। হলং বাংলোর অনুপস্থিতিতে পর্যটনের যে ক্ষতি হয়েছিল, এই পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, হলং বাংলো শুধুমাত্র একটি পর্যটন আবাস নয়, এটি উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি নতুনভাবে তৈরি হলে ওই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত আকর্ষণ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। খুব দ্রুত কাজ শেষ করে পর্যটকদের জন্য বাংলোটির দরজা খুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!