ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই কিন্তু নির্বাচনী আধিকারিকদের আপাত ডেরায় ঢুকে হানা বুনো দাঁতালের | The 4th Column

নিজস্ব প্রতিবেদক, আলিপুরদুয়ার, জৈন্তি, ৩ এপ্রিল ২০২৬ :

বনবাংলো গুড়িয়ে দিয়ে খাবার সাবাড় গজরাজের

কোনো কেন্দ্রীয় বাহিনী বা দুঁদে পুলিশ অফিসার—কাউকেই তোয়াক্কা করল না সে! ভোটার তালিকায় নাম নেই বলে আক্ষেপও নেই, বরং রীতিমতো ‘দাবাং’ স্টাইলে হানা দিয়ে বুঝিয়ে দিল, জঙ্গলের আসল ‘অবজারভার’ সে নিজেই। আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জৈন্তি বনবাংলোয় বৃহস্পতিবার রাতে এক দলছুট বুনো দাঁতাল যা কাণ্ড ঘটালো, তাতে চক্ষু চড়কগাছ বনকর্মী থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের।

নির্বাচনের ডিউটিতে এসে আলিপুরদুয়ার ও মাদারিহাটের দুই কেন্দ্রীয় অবজারভার আস্তানা গেড়েছিলেন এই বাংলোয়। তাঁদের রসুইঘরে মজুত ছিল চাল, ডাল, আটা আর টাটকা শাকসবজি। কিন্তু দাঁতাল বাবাজির বোধহয় ঘ্রাণশক্তি একটু বেশিই প্রখর। রাতের অন্ধকারে সিঁধেল চোরের মতো নয়, বরং দেওয়াল ধসিয়ে বীরদর্পে সে প্রবেশ করল রান্নাঘরে। এরপর শুরু হলো আসল ‘অপারেশন ডিনার’। একে একে সাবাড় করল সব মজুত খাবার। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বন্দুক হাতে থাকলেও, বুনো হাতির এমন রুদ্রমূর্তি দেখে সামনে যাওয়ার সাহস পাননি কেউ।
বনদপ্তরের তৈরি পাকা বাংলোর দেওয়াল এখন ভাঙা স্তূপ। অবজারভার এন কে সুধাংশু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, “ভাগ্যিস রাতে ওখানে ছিলাম না!” অন্যদিকে, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল মশকরা করেই যেন মনে করিয়ে দিলেন, হাতির ডেরায় মানুষ থাকা মানেই বিপদ। সব মিলিয়ে, ভোটের বাজারে ভোটার না হয়েও জৈন্তির মন জয় (এবং পেট জয়) করে আপাতত জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়েছে সেই গজরাজ।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!