আদালতের কড়া নির্দেশ অগ্রাহ্য, বক্সার কোর এলাকায় অবাধে চলছে পর্যটকদের বেআইনি রাত্রিবাস | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৭ মে ২০২৬ :

আদালতের তোয়াক্কা না করেই বক্সার কোর এলাকায় বেআইনি পর্যটন, সংকটে জীববৈচিত্র্য।

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: জাতীয় পরিবেশ আদালতের (এনজিটি) স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াইয়ের পরও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের কোর এলাকায় পর্যটন ও রাত্রিযাপন বন্ধ করা যায়নি। জয়ন্তী থেকে শুরু করে বক্সা পাহাড়ের লেপচাখা পর্যন্ত এখনও অবাধে চলছে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ ও হোমস্টে ব্যবসা। এই পরিস্থিতিতে বক্সার বন্যপ্রাণ ও জীববৈচিত্র্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বনকর্তা, পরিবেশবিদ ও প্রকৃতিপ্রেমীদের একাংশ।
২০১৬ সালে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ভেতরে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ে প্রথম মামলা দায়ের হয়। এরপর ২০২০ সালে বনদপ্তর জয়ন্তীতে তিনটি বেআইনি হোমস্টে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ২০২২ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে কোর এলাকায় কোনওভাবেই পর্যটন বা রাত্রিযাপন চলতে পারে না। কিন্তু অভিযোগ, গত ১৪ মাস ধরে বনে প্রবেশের টোল ট্যাক্স তুলে দেওয়ার পর থেকে অবাঞ্ছিতদের ভিড় আরও বেড়েছে। দেশের ৫৫টি টাইগার রিজার্ভের মধ্যে একমাত্র বক্সার কোর এলাকাতেই এভাবে অবাধ পর্যটন চলছে, যা ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির (এনটিসিএ) গাইডলাইনের সম্পূর্ণ বিরোধী।
পরিবেশবিদদের মতে, জলদাপাড়া, গরুমারা, ন্যাওড়াভ্যালি কিংবা অসমের কাজিরাঙা ও মানস ন্যাশনাল পার্কের কোর এলাকায় মানুষের প্রবেশ ও রাত্রিযাপন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাহলে বক্সার ক্ষেত্রে কেন ব্যতিক্রম হবে? কোর এলাকা মূলত বন্যপ্রাণের নিরাপদ আঁতুরঘর। সেখানে লাগাতার মানুষের আনাগোনা, গাড়ির শব্দ এবং বাণিজ্যিক চাপের কারণে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। প্রকৃতিপ্রেমী সংস্থা ‘ন্যাফ’-এর মুখপাত্র অনিমেষ বসু জানান, “কোর এলাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর অংশ। বক্সার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবিলম্বে পরিবেশ আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা প্রয়োজন।”
বনকর্তাদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে ভবিষ্যতে ভিনরাজ্য থেকে বাঘ এনে বংশবৃদ্ধির পরিকল্পনা সফল হবে না। ২০২০ সালের পর অসম ও ভুটান থেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বক্সায় ঢুকলেও, অনুকূল পরিবেশের অভাবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। যদিও বনদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কোর এলাকার বনবস্তি পুনর্বাসনের কাজ ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়াবস্তি ইতিমধ্যেই পুনর্বাসিত হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে জয়ন্তী ও সান্তলাবাড়ির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর না হলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী আবাসের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!