নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

ভারত-ভুটান সীমান্তে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৬টি বাড়ি, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত বৃদ্ধা
নিজস্ব সংবাদদাতা, জয়গাঁ: ভারত-ভুটান সীমান্তের জয়গাঁ শহরের ঝর্ণাবস্তিতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লাগা এই আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে ৬টি পরিবারে মাথা গোঁজার ঠাঁই। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৭টি বাড়ি। অগ্নিকাণ্ডে গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন এক বৃদ্ধা। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটছে সর্বহারা পরিবারগুলির।
দমকল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা নাগাদ ঝর্ণাবস্তির বাসিন্দা মহিরুদ্দিন মিঁয়ার বাড়িতে প্রথম আগুনের শিখা দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবেশী বাড়িগুলোতে। এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি হওয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে রান্নার গ্যাসের দুটি সিলিন্ডার পর পর ফেটে যাওয়ায় আগুনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই আগুনেই ঝলসে যান আলিমা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা। তাঁকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হ্যামিল্টিগঞ্জ ও জয়গাঁ থেকে দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের ফুন্টশোলিং থেকেও দুটি দমকলের ইঞ্জিন এসে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগায়। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ১৩টি পরিবারের সদস্যরা। জয়গাঁ দমকল কেন্দ্রের ওসি শম্ভুনাথ গোপ জানান, ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ সমস্যায় পড়েন দমকল কর্মীরা। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের উৎপত্তি।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে সর্বস্বান্ত পরিবারগুলি এখন নিদারুণ অর্থকষ্টের সম্মুখীন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা দিলদার মিঁয়া জানান, চোখের সামনে ভিটেমাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেল, কিছুই বাঁচানো যায়নি। বর্তমানে ঝর্ণাবস্তির এই পরিবারগুলিকে ত্রাণ সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে জয়গাঁ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (JDA)। জেডিএ-র চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক পর্যায়ে ত্রিপল, চাল ও ডাল দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সাহায্যের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে বিশেষ সুপারিশ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।