নিজস্ব সংবাদদাতা, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬:

বিয়ের মাত্র এক বছর। কোলজুড়ে নতুন প্রাণ আসার অপেক্ষায় ছিল পরিবার। কিন্তু তার আগেই ফুরিয়ে গেল আয়েশা সিদ্দিকার (১৮) জীবন। পশ্চিম শিমলাবাড়ি এলাকায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় স্বামী মুসারিফ হুসেনকে গ্রেফতার করেছে সোনাপুর থানার পুলিশ।
মৃতার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে পুণ্ডিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আয়েশার সাথে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল পেশায় শ্রমিক মুসারিফ হুসেনের (২২)। আয়েশার দাদার অভিযোগ, বিয়ের কিছুকাল পর থেকেই তাঁর বোনের ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। মুসারিফের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এই অশান্তি চরমে উঠেছিল বলে দাবি পরিবারের।
গত ২৯ এপ্রিল রাতে পাশের গ্রাম থেকে আয়েশার বাপের বাড়িতে খবর যায় যে তাঁর শরীর অত্যন্ত খারাপ। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান আয়েশার পরিজনরা। সেখানে গিয়ে তাঁরা আয়েশার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের অভিযোগ, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে আয়েশাকে। এমনকি মৃত্যুর আগে তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তাঁর দাদা। মৃতদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা।
ঘটনার পর দেহটি উদ্ধার করে বাবুরহাট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই সোনাপুর থানায় খবর পৌঁছালে পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্ত স্বামী মুসারিফ হুসেনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে এভাবে নৃশংসভাবে মেরে ফেলার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দোষীর দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে আয়েশার পরিবার। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।