জারুল রাভা, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২৪ মে ২০২৬:
জেলার সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে কর্মসংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। দীর্ঘদিন ধরে একাংশ স্বাস্থ্য কর্মীর গাফিলতি এবং সময়ানুবর্তিতার অভাব নিয়ে বিস্তর অভিযোগ জমা হচ্ছিল। এবার এই ফাঁকিবাজি ও দুর্নীতি রুখতে আলিপুরদুয়ার জেলার স্থায়ী স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই মর্মে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে রূপায়ণের জন্য কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যে শিলিগুড়ির পূর্ত বিভাগের আইটি শাখার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। অভিযোগ রয়েছে যে, বিগত তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে শাসক দলের মদতপুষ্ট এক শ্রেণির স্বাস্থ্য কর্মী কর্মসংস্কৃতিকে সম্পূর্ণ শিকেয় তুলেছিলেন। তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করতেন এবং বিভিন্ন বেআইনি ও দুর্নীতিমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদলের পর, এই সমস্ত উচ্ছৃঙ্খল এবং দায়বদ্ধতাহীন কর্মীদের কড়া হাতে দমন করতে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কড়া নির্দেশিকা এসেছে। সেই নির্দেশিকা মেনেই এবার এই অবস্থান নিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের সিএমওএইচ।
জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল, বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতাল, ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল সহ জেলার মোট ৭টি গ্রামীণ হাসপাতাল এবং ১৩টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্ত স্থায়ী কর্মীকে এই বায়োমেট্রিক হাজিরার আওতায় আনা হবে। নিয়ম অমান্য করলে কিংবা ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা স্বীকার করেছেন যে, গত ২০ মে তারিখে জেলার প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এই কড়া নির্দেশিকার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে এবং এসএমএসের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তিনি কোনো উত্তর দেননি।