তিন মাসেও মেরামত হয়নি এশিয়ান হাইওয়ের গুরুত্বপূর্ণ গারগেন্ডা সেতু : যানজটে নাকাল যাত্রীরা | The 4th Column
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২৪ আগষ্ট ২০২৫ :

গত ৩১ মে গভীর রাতে আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ার কাছে ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের গারগেন্ডা সেতুর উত্তর দিকের অ্যাপ্রোচ রোড হড়পা বানের তোড়ে ধসে গিয়েছিল। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে সেতুর একটি পিলারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু এই ঘটনার পর প্রায় তিন মাস কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত সেতুর মেরামত কাজ শুরু হয়নি। এর ফলে একটি মাত্র লেনে গাড়ি চলাচল করায় প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা নিত্যযাত্রী ও পরিবহন কর্মীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়েকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলা হয়, কারণ এটি হাসিমারার কাছে অসমগামী ৩১/সি জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একটি সেতু দীর্ঘ তিন মাস ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন কর্মী এবং পুলিশ প্রশাসন।
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই জেলা পুলিশ ওই সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। ভারী যানবাহনগুলোকে মাদারিহাট ও বীরপাড়া থেকে ২৪ কিলোমিটার ঘুরপথে ফালাকাটা হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ছোট গাড়িগুলো সেতুর এক লেন ব্যবহার করে পারাপার হচ্ছে, যার ফলে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বীরপাড়া থানার পুলিশকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এই যানজট সামলাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে। এছাড়াও, জয়গাঁ ও ভুটানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
জয়গাঁ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা অভিযোগ করে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত ক্ষেত্রেই বাংলাকে বঞ্চিত করছে, গারগেন্ডা সেতু তারই একটি প্রমাণ।”
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবমশী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি দ্রুত মেরামতের জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার রমেন মণ্ডল জানিয়েছেন, সেতু মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও কাজ শুরু হতে কেন এত দেরি হচ্ছে, তার কোনো স্পষ্ট জবাব মেলেনি। তাদের একটাই দাবি, দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করে সেতুটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক, যাতে এই ভোগান্তির অবসান ঘটে।