নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৭ মে ২০২৬ :

ফালাকাটা ওলটপালট! বিধ্বংসী ঝড়ে চুরমার শতাধিক ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎহীন উত্তর ধুলাগাঁও
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: শনিবার রাতের পর রবিবার সন্ধ্যা রাতের ক্ষণিক, কিন্তু ভয়াবহ ঝড়ের তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে গেল আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জটেশ্বর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ধুলাগাঁও এলাকায়। ঝড়-বৃষ্টির ভয়ঙ্কর দাপটে গোটা এলাকা জুড়ে এখন শুধু ধ্বংসের ছবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে আচমকাই তীব্র গতিতে ঝড় আছড়ে পড়ে। ঝড়ের দাপটে এলাকার একাধিক বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে। বহু বাড়ির টিনের চাল উড়ে গিয়েছে, ভেঙে পড়েছে দেওয়াল। ঝড়ের সবথেকে ভয়ঙ্কর রূপ দেখা যায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মারুতি ভ্যান গাড়িকে ঘিরে। একটি বিশাল গাছ উপড়ে সরাসরি গাড়িটির ওপর আছড়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে চুরমার হয়ে যায় সেটি। শুধু গাড়িই নয়, বহু পরিবারের মাথার গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নিয়েছে এই দুর্যোগ। গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎবাহী তার ছিঁড়ে গিয়েছে, উপড়ে গিয়েছে খুঁটিও। ফলে রবিবার সারাদিন পরও গোটা এলাকা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন। তীব্র অন্ধকারে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দুর্গত বাসিন্দারা। ঝড় থেমে গেলেও উত্তর ধুলাগাঁওয়ের মানুষের মন থেকে আতঙ্ক কাটেনি। আজ সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা থেকে গাছ ও ডালপালা সরিয়ে যাতায়াত স্বাভাবিক করার চেষ্টায় নামেন। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। জটেশ্বর ছাড়াও এই ব্লকের দেওগাঁ ও দলগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফালাকাটা ব্লক প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, “ক্ষণিকের এই ঝড়ে ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১১৯টি বাড়ি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে জরিপের কাজ শুরু করেছি। দুর্গত পরিবারগুলির হাতে দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।” প্রশাসন পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেও, আকস্মিক এই বিপর্যয়ে আপাতত ঘরছাড়া বহু মানুষ।