ফালাকাটা পুরসভায় বিনা রয়্যালটিতে মাটি ভরাট, তুঙ্গে বিতর্ক
নিউজ ডেস্ক, আলিপুরদুয়ার, দ্যা ফোর্থ কলাম, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ :
ফালাকাটা পুরসভায় বিনা রয়্যালটিতে মাটি ভরাটের অভিযোগ ঘিরে তীব্র শোরগোল পড়েছে শহর জুড়ে। শাসক দল পরিচালিত বিরোধী শূন্য পুরসভার একাধিক কাউন্সিলর এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, মাটি ভরাটের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি বোর্ড অফ কাউন্সিলর্সের সভায় আলোচনা বা অনুমোদন ছাড়াই করা হয়েছে। যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ মুহুরি তাড়াহুড়োর কারণে রয়্যালটি কাটা এবং বিওসির অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেছেন।
জানা গিয়েছে, পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ ডাঙায় একটি পুরনো পুকুরের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই পুকুর থেকে তোলা অতিরিক্ত মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খলিসামারিতে নির্মীয়মাণ সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের জমি ভরাটের কাজে। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতিদিন প্রায় পাঁচটি ট্র্যাক্টর বোঝাই মাটি বিনা রয়্যালটিতে বেআইনিভাবে পরিবহন করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের মাটি ভরাটের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা যে অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে, সেই অর্থ এখন কোথায় যাবে? কারণ তারা তো বিনামূল্যে মাটি পাচ্ছে। এছাড়াও, ঠিকাদার সংস্থা এই বিপুল পরিমাণ মাটির হিসেব ঠিক কোন পথে দাখিল করবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শাসক দলের কাউন্সিলরদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অভিজিৎ রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মাটি ভরাটের বিষয়টি আমার জানা নেই। বোর্ড অফ কাউন্সিলর্সে ওই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।” একই সুর শোনা যায় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম দেবের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “মাটি ভরাটের বিষয়টি আমি জানি না। ওই বিষয়ে চেয়ারম্যান ভালো বলতে পারবেন।”
অন্যদিকে, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদার প্রশান্ত দাস চেয়ারম্যানের নির্দেশেই মাটি ভরাট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কেন রয়্যালটি কাটা হয়নি, তা চেয়ারম্যানই বিস্তারিতভাবে বলতে পারবেন।”
এই প্রসঙ্গে ফালাকাটা পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ মুহুরি বর্তমানে কলকাতায় রয়েছেন। তিনি টেলিফোনে জানান, “পুরসভার বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের ডিপিআর জমা দেওয়ার জন্য আমি কলকাতায় এসেছি। তাড়াহুড়োর জন্য রয়্যালটি কাটা সম্ভব হয়নি। ওদিকে পুকুরের অতিরিক্ত মাটি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই কারণেই তড়িঘড়ি মাটি ভরাটের কাজ শুরু করা হয় এবং বোর্ড অফ কাউন্সিলরসের অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমি ফালাকাটায় ফিরে এসেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
বিনা রয়্যালটিতে মাটি ভরাট এবং বোর্ড অফ কাউন্সিলরসের অনুমোদন না নেওয়ার এই ঘটনায় পুরসভার অভ্যন্তরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। চেয়ারম্যান কলকাতায় থাকাকালীন এই বিতর্ক আরও কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ফালাকাটা শহর।