নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২০ মে ২০২৬ :

আলিপুরদুয়ার: দুয়ারে কড়া নাড়ছে বর্ষা, আর তার মাঝেই জেলা জুড়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। কিন্তু রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর আলিপুরদুয়ার জেলার দু’টি প্রধান পুরসভা কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। গত ৪ মের পর থেকে আলিপুরদুয়ার এবং ফালাকাটা পুরসভার দপ্তরগুলিতে তৃণমূলের কাউন্সিলরদের দেখা মিলছে না। দুই পুরসভার চেয়ারম্যানরাও সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। ফলে বর্ষা আসার ঠিক মুখে পুর পরিষেবা একপ্রকার লাটে উঠেছে বলে অভিযোগ শহরবাসীর।
প্রসঙ্গত, আলিপুরদুয়ার পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৯টিই ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। অন্যদিকে, ফালাকাটা পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডই ছিল বিরোধী শূন্য। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর স্বাভাবিক ভাবেই চরম হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন শাসকদলের কাউন্সিলররা। যার সরাসরি এবং মারাত্মক প্রভাব পড়েছে দুই শহরের নাগরিক পরিষেবার ওপর। বর্তমানে দুই শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে উঠেছে জঞ্জালের পাহাড়, যা থেকে তীব্র দূষণ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় নালা-নর্দমাগুলি বুজে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জলনিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নর্দমার জমা জলে মশার দল নির্বিঘ্নে বংশবৃদ্ধি করে চলেছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৬ এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬১। স্বস্তির বিষয় এই যে, আক্রান্তদের মধ্যে কেউই এখনও পর্যন্ত পুর এলাকার বাসিন্দা নন। তবে দ্রুত যদি আবর্জনা পরিষ্কার এবং জলনিকাশি ব্যবস্থার হাল ফেরানো না যায়, তবে পুর এলাকায় বড়সড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় আসতে সময় লাগবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিগত বছরগুলিতে বর্ষার আগে পুরসভার উদ্যোগে নালা-নর্দমায় মশার লার্ভা মারতে গাপ্পি মাছ ছাড়া হত এবং নিয়মিত ডিডিটি ও কীটনাশক স্প্রে করা হত। কিন্তু এবার রাজনৈতিক অচলাবস্থার জেরে সেইসব কাজ সম্পূর্ণ থমকে রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি সিএমওএইচ সুপ্রিয় চৌধুরী তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, “জেলা জুড়ে বর্ষার সময় ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাঠে নামত পুরসভাগুলি। আসন্ন বর্ষায় বড় বিপদের আশঙ্কা করছি। এই মুহূর্তেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক না হলে এবার বিপদের শেষ থাকবে না।”