ডমরু ধর, দ্য ফোর্থ কলাম, ফালাকাটা, ২৫ মে ২০২৬:
ফালাকাটা শহরের মার্কেট কমপ্লেক্সে সরকারি ঘর বন্টনে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল ফালাকাটা কিষান মান্ডি। ২০১৫ সালে ফালাকাটা শহরের উপকণ্ঠে গড়ে ওঠা এবং একসময়ে এশিয়ার সেরা কৃষক বাজারের শিরোপা পাওয়া এই বৃহৎ পাইকারি আনাজ বাজারটি বর্তমানে চরম অব্যবস্থা ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। কৃষক থেকে শুরু করে আনাজ পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত চালকদের দাবি, শাসকদলের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ নেতার অঙ্গুলিহেলনে পার্কিং ফি-র নামে এখানে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার বেআইনি তোলাবাজি চলছে।
পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের অভিযোগ, বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অজুহাতে ছক কষে গাড়িপ্রতি মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে। গাড়ির চালক তমাল ঘোষ জানান, বড় লরির ক্ষেত্রে ২০০ টাকা, পিক-আপ ভ্যানে ১৫০ টাকা, তিন চাকার অটো বা টেম্পোতে ৫০ টাকা এবং টোটোর জন্য ১০ টাকা পার্কিং ফি দিতে হয়। গাড়ি যতবার বাজারে সবজি নিতে ঢুকবে, ততবারই বাধ্যতামূলকভাবে এই ফি দিতে হয়। প্রতিদিন গড়ে ৩০০-র বেশি গাড়ি বাজারে ঢোকে, যার ফলে রোজ প্রায় ৩০ হাজার টাকা আদায় হয় শুধুমাত্র একটি নামমাত্র স্লিপের বিনিময়ে।
অথচ এই বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ের পরও বাজারের ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। দক্ষিণ পারঙ্গেরপার লাগোয়া এই বাজারটিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই জল থইথই করে। বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন বিশ্বাস জানান, এখানকার দূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নাকে রুমাল দিয়েও টেকা দায়, কৃষক ও পাইকাররা নিয়মিত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। একসময় প্রতিবেশী দেশ ভুটান থেকে প্রচুর ব্যবসায়ী আসলেও, বর্তমানে জোর যার মুল্লুক তার কায়দায় চলা এই বাজারের চরম অব্যবস্থার কারণে পাইকারদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে।
এই বিষয়ে ফালাকাটা কিষান মান্ডির আরএমসি সেক্রেটারি উত্তম ভৌমিককে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বাজার পরিষ্কার রাখার জন্যই মূলত এই ফি নেওয়া হয়। কিন্তু বাজারের এমন বেহাল দশা কেন, সেই প্রশ্নের মুখে তিনি নিরুত্তর থাকেন। তৃণমূল নেতৃত্বের তরফেও এই অভিযোগ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন সরব হয়ে জানিয়েছেন, শাসকদলের নেতাদের মদতেই এই তোলাবাজি চলছে এবং তিনি অবিলম্বে আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকের কাছে সব অভিযোগ লিখিত আকারে জানিয়ে তদন্তের দাবি করবেন।