ফালাকাটায় সরকারি মার্কেট কমপ্লেক্সের ঘর বন্টনে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ | The 4th Column

ডমরু ধর, দ্য ফোর্থ কলাম, ফালাকাটা, ২৩ মে ২০২৬ :-

আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা শহরের হাটখোলায় সরকারি মার্কেট কমপ্লেক্সে স্টল বা ঘর বন্টনকে কেন্দ্র করে বিশাল দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে ওই ত্রিতল বিশিষ্ট মার্কেট কমপ্লেক্সের একাধিক ঘর তৃণমূল কংগ্রেসের ছোট, মেজো এবং বড় মাপের নেতা ও তাঁদের আত্মীয়দের নামে বরাদ্দ করা হয়েছে। এমনকি, যে সরকারি ঘর কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়, প্রভাব খাটিয়ে সেই ঘরগুলিও ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে।
​সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদলের পরেই বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের একাংশের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। শনিবার তাঁরা মার্কেট কমপ্লেক্সের বেশ কিছু ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং ফালাকাটার বর্তমান বিধায়ক দীপক বর্মনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরেই গোটা শহর জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
​প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে ২০১৯ সালে প্রায় ৮ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে হাটখোলায় এই আধুনিক মার্কেট কমপ্লেক্সটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এরপর ২০২২ সাল থেকে শুরু হয় স্টল বন্টনের প্রক্রিয়া। অভিযোগ, সেই সময়ে ব্লক প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে চরম স্বজনপোষণ করা হয়েছিল। শুধুমাত্র শাসকদলের নেতা, কর্মী এবং প্রভাবশালী হওয়ার সুবাদে বহু অ-ব্যবসায়ীকে স্টল পাইয়ে দেওয়া হয়।
​শনিবার প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, স্টল প্রাপকদের তালিকায় তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার আত্মীয়দের নাম জ্বলজ্বল করছে। জানা গিয়েছে, বর্তমানে তৃণমূলের টাউন ব্লক সভাপতি রাজু মিশ্রের স্ত্রীর নামে ঘর বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়াও তৃণমূলের প্রয়াত সহ-সভাপতি ত্রিনা সাহার ছেলে ত্রিদী সাহা এবং বর্তমান তৃণমূল যুব সভাপতি নীল নন্দীর বাবার নামেও ঘর বন্টনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই তালিকায় আরও বহু তৃণমূল নেতা ও কর্মীর নাম রয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।
​এই বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের টাউন ব্লক সভাপতি রাজু মিশ্র আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, “আমি মাত্র ছয় মাস আগে এই দলীয় পদে এসেছি। যখন এই ঘরের জন্য আবেদন করেছিলাম, তখন দলের একজন সাধারণ কর্মী ছিলাম। তবুও যদি এখন প্রশাসন মনে করে যে ওই ঘর ফিরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, তবে আমি তা অবিলম্বে ফেরাতে প্রস্তুত।”
​অন্যদিকে, ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন এই প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এ তো সবেমাত্র শুরু। দুর্নীতির এই কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে আগামীতে আরও কত কেউটে বেরিয়ে আসবে, তার কোনো সীমা নেই। আমরা উপযুক্ত তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। তদন্তের পর দোষীদের যাতে কঠোর আইনি সাজা দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে আমি সম্পূর্ণভাবে সচেষ্ট থাকব।”
​পুরো ঘটনার জেরে ফালাকাটার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন এই দুর্নীতির অভিযোগে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!