বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা : পুলিশ ক্যান্টিনের রাঁধুনিই মাদক সম্রাজ্ঞী, পর্দাফাঁস ডুয়ার্সে
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম,আলিপুরদুয়ার, ৩০শে এপ্রিল ২০২৫ :-

এ যেন প্রবাদের জীবন্ত উদাহরণ! যেখানে রক্ষকের ভূমিকায় থাকার কথা, সেখানেই বাসা বেঁধেছিল অপরাধের অন্ধকার। আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা থানার জটেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির ক্যান্টিনের রান্নার দায়িত্বে থাকা অনিমা মজুমদার নামের এক মহিলা, পুলিশের নাকের ডগায় বসে দিব্যি চালাচ্ছিলেন মাদকের রমরমা কারবার। জেলার মাদারিহাট থানার শিশুবাড়ির বাসিন্দা এই মহিলা, রান্নার কাজের আড়ালে হয়ে উঠেছিলেন মাদক ব্যবসার ‘মক্ষী রাণি’।
আর এই কুকর্মের মূল হোতা ছিল ডুয়ার্সের কুখ্যাত মাদক কারবারি রবিউল ইসলাম। শিশুবাড়ির বাসিন্দা হওয়ায় অনিমার সাথে তার পুরনো পরিচয় ছিল। পুলিশের খাতায় রবিউলের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। জটেশ্বরের হেদায়েত নগরের একটি ভাড়া বাড়িতে ঘাঁটি গেড়ে এই দু’জন মিলেমিশে মাদক সাম্রাজ্য চালাচ্ছিল।
ধূর্ত রবিউল বুঝতে পেরেছিল, পুলিশের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় অনিমাকে সহজে কেউ সন্দেহ করবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দাগি এই কারবারি অনিমাকে ব্যবহার করে নির্বিঘ্নে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছিল।
অবশেষে সোমবার রাতে ফালাকাটা থানার আইসি অভিষেক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে পুলিশের জালে ধরা পড়ে এই অসাধু চক্র। গভীর রাতে তাদের হেদায়েত নগরের ভাড়া বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ। ঘরের ভেতরে মজুত ছিল ২,২৯১ বোতল কাফ সিরাপ এবং ৩,১২০ স্ট্রিপ নিষিদ্ধ ঘুমের ওষুধ। সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার করা হয় অনিমা মজুমদার ও রবিউল ইসলামকে।
ঘটনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সোমবার গভীর রাতে ওই মাদক দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন ফালাকাটার বিডিও অনীক রায়, যিনি পদমর্যাদা বলে একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
একই রাতে ফালাকাটা শহরের বড়ডোবা এলাকার গোয়ালপাড়ায় পৃথক একটি অভিযানে ভজন রায় ও মনোজ গিরি নামে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৪ গ্রাম ব্রাউন সুগার। অভিযোগ, এই দু’জন কাগজের পুরিয়ায় মুড়ে রীতিমতো ফেরি করে মোটা টাকায় খদ্দেরদের কাছে ব্রাউন সুগার বিক্রি করত। ধৃত ভজন রায়ের বাড়ি শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাবু পাড়ায় এবং মনোজ গিরির বাড়ি একই ওয়ার্ডের এনএম কলোনিতে।
এদিন ফালাকাটা থানায় এক সাংবাদিক বৈঠকে জয়গাঁর এসডিপিও প্রশান্ত দেবনাথ বলেন, “নিষিদ্ধ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে ফালাকাটায় বড় সাফল্য মিলেছে। দুটি পৃথক অভিযানে কাফ সিরাপ, নিষিদ্ধ ঘুমের ওষুধ ও ব্রাউন সুগারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনেও পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশের ক্যান্টিনের রাঁধুনি মাদক চক্রের মূল পান্ডা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই ঘটনা ফের একবার প্রমাণ করল, মাদক কারবারীরা তাদের অবৈধ ব্যবসা চালানোর জন্য নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তবে পুলিশের এই সফল অভিযান ডুয়ার্সে মাদক কারবারীদের কাছে একটি কড়া বার্তা দিল বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।