ফালাকাটার বংশীধরপুরে বুনো হাতি তাড়াতে গিয়ে আক্রান্ত বিট অফিসার সহ চার বনকর্মী | The 4th Column

জারুল রাভা, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২৫ মে ২০২৬:

— AI জেনারেটেড ছবি, কাল্পনিক!

রবিবার গভীর রাতে লোকালয়ে ঢুকে পড়া বুনো হাতির দলকে জঙ্গলে ফেরত পাঠাতে গিয়ে গ্রামবাসীদের একাংশের হাতে আক্রান্ত হলেন বনদপ্তরের কর্মীরা। ফালাকাটা ব্লকের বংশীধরপুর এলাকায় ঘটা এই অনভিপ্রেত ঘটনায় এক বিট অফিসার-সহ মোট চারজন বনকর্মী আহত হয়েছেন। বিনা প্ররোচনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বনকর্মীদের আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ফালাকাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বনদপ্তর।
​বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে জলদাপাড়া পশ্চিম রেঞ্জের ব্যাঙডাকি বিট সংলগ্ন বংশীধরপুর এলাকায় বুনো হাতির একটি দল তাণ্ডব চালাতে শুরু করে। খবর পেয়ে ব্যাঙডাকির বিট অফিসার হেম কুমার থাপার নেতৃত্বে একদল বনকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযোগ, হাতি তাড়ানোর কাজ শুরু করতেই ওই এলাকার বাসিন্দা সুভাষ বর্মন এবং তাঁর তিন ছেলে বিনা প্ররোচনায় বনকর্মীদের ওপর চড়াও হন। তাঁদের শারীরিকভাবে নিগ্রহ করার পাশাপাশি বনরক্ষীদের হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। হামলায় বিট অফিসার হেম কুমার থাপা-সহ চার বনকর্মী জখম হন।
​রবিবার রাত ২টো নাগাদ ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আহত বনকর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। এরপর বনদপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নির্দেশে ফালাকাটা থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত বনকর্মীরা। বনদপ্তর জানিয়েছে, অভিযুক্ত ওই পরিবারটির বিরুদ্ধে এর আগেও বনকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।
​ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জলদাপাড়া বনবিভাগের ডিএফও পারভীন কাসোয়ান বলেন, “আমাদের কর্মীরা লোকালয় থেকে হাতি তাড়ানোর সময় আক্রান্ত হয়েছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।” অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার জেলার পুলিশ সুপার অমিত কুমার শাহ জানিয়েছেন, “পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না।”

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!