ফালাকাটার কলি নদীতে অবৈধ বালি-পাথর উত্তোলন, সংকটে ‘এথেলবাড়ী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার , ২২ জুন ২০২৫ :-
আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা ব্লকের ধনিরামপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের কলি নদী থেকে দিনদুপুরে চলছে অবাধে বালি-পাথর লুট। এই অবৈধ উত্তোলনের কারণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘এথেলবাড়ী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পার্কের উত্তরদিক দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি কলি নদী থেকে শত শত ট্র্যাক্টরের মাধ্যমে প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই বালি-পাথর চুরির কারবার চলছে।
শুধু তাই নয়, এই অবৈজ্ঞানিক খননের ফলে দেশের উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ে এবং কলি নদীর সেতু যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িতদের নাম বলতে নারাজ হলেও, অভিযোগ প্রতিদিন ভোর ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই লুটপাট চলে। এশিয়ান হাইওয়ের ধারে প্রকাশ্যে এই অবৈধ নদী খনন কেন প্রশাসনের নজরে পড়ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি বালি ও পাথর বোঝাই বেপরোয়া ট্র্যাক্টরের ধাক্কায় এথেলবাড়ী থেকে জটেশ্বর যাওয়ার পথে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ। জানা গেছে, এক ট্রলি বালি ১০০০ টাকায় এবং পাথর ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের নজর এড়িয়ে কীভাবে এই অবৈধ কারবার চলছে, তা নিয়ে বিরোধী শিবির প্রশ্ন তুলেছে।

আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার কড়া ব্যবস্থার আশ্বাসকে ‘ভাঁওতা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “তৃণমূলের জমানায় লুট শিল্প জাঁকিয়ে বসেছে, তার প্রমাণ কলি নদীর বালি-পাথরের লুট শিল্প।” ফালাকাটার বিডিও অনীক রায় জানিয়েছেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবমশী আশ্বাস দিয়েছেন, বিনা অনুমতিতে বালি-পাথর উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না এবং পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে।