জারুল রাভা, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২৫ মে ২০২৬:
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের জঙ্গলে ঘটল এক মর্মান্তিক ও অস্বাভাবিক ঘটনা। কুনকি হাতির জন্য ঘাস সংগ্রহ করতে গিয়ে আচমকা একটি দামাল গন্ডারের আক্রমণের শিকার হলেন বনদপ্তরের কর্মীরা। এই ভয়াবহ হামলায় প্রবীর দাস (২৬) নামে এক পাতাওয়ালার মৃত্যু হয়েছে। চোখের সামনে সহকর্মীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বরাতজোরে বেঁচে ফেরা মাহুত মনোজ খড়িয়া। গন্ডারের হামলায় জখম হয়েছে কুনকি হাতি পারমিতা ও ধর্মরাজও।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বেলা ১টা নাগাদ জলদাপাড়া উত্তর রেঞ্জের শিল তোর্সা টাওয়ার সংলগ্ন গভীর জঙ্গলে প্রাত্যহিক টহলদারির কাজ সেরে কুনকি হাতি ধর্মরাজ ও পারমিতাকে নিয়ে ঘাস সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন মাহুত মনোজ ও পাতাওয়ালা প্রবীর। সেই সময় প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি পূর্ণবয়স্ক একশৃঙ্গ গন্ডার ঘাস খাচ্ছিল। জঙ্গলে হাতি ও গন্ডারের এই সহাবস্থান খুবই স্বাভাবিক দৃশ্য। সাধারণত কুনকি হাতিদের দেখলে বন্যপ্রাণীরা কিছুটা সমীহ করেই চলে। কিন্তু এদিন ঘটে যায় এক অভাবনীয় ঘটনা।
সব নিয়ম ও হিসাব ওলটপালট করে দিয়ে আচমকাই মেজাজ হারায় ওই গন্ডারটি। চোখের নিমেষে তেড়ে এসে আক্রমণ করে পারমিতা ও ধর্মরাজকে। নিজেদের বাঁচাতে হাতি দুটি মরিয়া হয়ে উঠলে পিঠ থেকে মাটিতে ছিটকে পড়েন প্রবীর। অন্যদিকে, মাহুত মনোজ একটি উঁচু গাছের ডালে ঝুলতে গিয়ে ডাল ভেঙে মাটিতে পড়ে যান। এরপরই প্রবীরকে বাগে পেয়ে ধারালো জিভ দিয়ে ফালাফালা করে দেয় ক্রুদ্ধ গন্ডারটি। শারীরিক যন্ত্রণায় পালাতে না পারলেও, গন্ডারটি হঠাৎ জঙ্গলের গভীরে চলে যাওয়ায় কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচে মনোজের।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বনকর্মীরা। তাঁদের উদ্ধার করে মাদারিহাট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রবীরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত প্রবীর খাঁউচাঁদপাড়ার বাসিন্দা এবং তাঁর আয়েই সংসার চলত। জখম মাহুত ও দুই হাতির চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় চিন্তিত বনকর্তারা জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক আচরণ। আগামী দিনে জঙ্গলে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন করে সুরক্ষার কথা ভাবতে হবে বনদপ্তরকে। নিহতের পরিবারকে নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।