নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৮ মে ২০২৬ :

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: বিগত সরকারের আমলে ত্রিস্তর গ্রাম পঞ্চায়েতে যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, তার সব ক্ষেত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। কোথায় কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, নবনির্বাচিত বিধায়করা সেই দুর্নীতির তালিকা তৈরি করে লিখিত আকারে জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেবেন। সোমবার আলিপুরদুয়ারের প্রশাসনিক ভবন ‘ডুয়ার্সকন্যা’-তে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের পরিচয়পর্বের বৈঠক শেষে এই কথা জানান আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা।
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার চার নবনির্বাচিত বিধায়ক—বিশাল লামা, মনোজ ওঁরাও, লক্ষণ লিম্বু এবং পরিতোষ দাস। তবে অন্য এক বিধায়ক দীপক বর্মন বিশেষ কারণে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। প্রশাসনের পক্ষে জেলাশাসক ময়ূরী ভাসু সহ বিভিন্ন লাইন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই পরিচিতি সভায় অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সাংসদ মনোজ টিগ্গা সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোমবারের বৈঠকে জেলার উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে কোনো পর্যালোচনা হয়নি, এটি মূলত একটি সৌজন্যমূলক পরিচয়পর্ব ছিল। তবে প্রশাসনের কাছে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “২০১৮ থেকে ২০২৩ এবং ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পঞ্চায়েত স্তরে যে টাকা এসেছে, তা কোথায় কীভাবে খরচ হয়েছে, সব খতিয়ে দেখা হবে। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ—তিনটি স্তরেই তদন্ত হবে। আমাদের স্পষ্ট ধারণা, ‘পথশ্রী’ ও ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পে কেবল কাগজেই উন্নয়ন হয়েছে, বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।” বিধায়করা এই দুর্নীতির তালিকা তৈরি করে প্রশাসনের কাছে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাবেন।
অন্যদিকে, ওয়াকিবহাল মহলের আশা ছিল এই বৈঠকে হাসিমারা অসামরিক বিমানবন্দর, বীরপাড়া আরওবি কিংবা রেলের জমিতে হাসপাতাল তৈরির মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় জেলাবাসীর একাংশের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি হয়। এই প্রসঙ্গে সাংসদ অবশ্য আশ্বস্ত করে বলেন, “হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং চা শিল্পের দুর্দশা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হবে।”