চিকিৎসকবিহীন টোটোপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র: বর্ষায় সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় চরম সংকট
নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২১ জুন:
আলিপুরদুয়ার জেলার প্রত্যন্ত টোটোপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গত দুই বছর ধরে কোনো চিকিৎসক না থাকায় বিপাকে পড়েছেন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন তাদিং পাহাড়ের কোলে বসবাসকারী প্রায় ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বাড়ায় এবং যাতায়াতের সমস্যা প্রকট হওয়ায় সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেখানে রাতে চিকিৎসক থাকেন না, সেখানে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার কোনো সুযোগ নেই এবং সাপের প্রতিষেধক এভিএস (Anti-Venom Serum) রাখারও কথা নয়। কিন্তু টোটোপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকা সত্ত্বেও এভিএস রেখে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা করা হচ্ছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অবসরপ্রাপ্ত সাপে কাটা রোগীর বিশেষজ্ঞ ডাঃ দয়াল বন্ধু মজুমদার। কলকাতার এই চিকিৎসক বলেন, “বেড ও ডাক্তার না থাকলে এভিএস রাখার কথা নয়। যেহেতু টোটোপাড়াতে আগে চিকিৎসক ছিল ও সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা হত, সেই কারণে হয়তো সেখানে এভিএস রাখা হয়। কিন্তু এটা স্বাস্থ্য দপ্তরের ২০১২ সালের নির্দেশিকার বিরোধী। অবিলম্বে পাহাড় ও বনাঞ্চল এলাকায় থাকা টোটো পাড়া হাসপাতালে চিকিৎসক দেওয়া প্রয়োজন।”
জানা গেছে, পৃথিবীর অন্যতম আদিম জনজাতি টোটোরা একমাত্র ভারতেই এই পাহাড়ি গ্রামে বসবাস করেন। তাদের গ্রাম হিসেবেই জেলার বীরপাড়া মাদারিহাট ব্লকের এই গ্রামের নাম টোটোপাড়া। ১০ বেডের এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুই বছর আগেও স্থায়ী চিকিৎসক ছিলেন। বর্তমানে শুধু একজন ফার্মাসিস্ট ও তিনজন নার্স দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চলছে। সপ্তাহে মাত্র একদিন একজন চিকিৎসক এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরকে বারবার জানানোর পরও চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ভবেশ টোটো জানান, “তিতি, বাউরি ও হাঙরি – এই তিনটি নদী নয়বার ডিঙিয়ে ২৫ কিলোমিটার দূরে মাদারিহাট ব্লক হাসপাতাল বা ৩৫ কিলোমিটার দূরে বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়। বর্ষায় খরস্রোতা এই তিন নদী পার হয়ে মাদারিহাট বা বীরপাড়া হাসপাতালে যাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। আর সাপে কাটা রোগীর ক্ষেত্রে তো সময়ের অভাবে আরও সমস্যায় পড়তে হয়। বারবার বলার পরেও আমরা এই হাসপাতালে চিকিৎসক পাচ্ছি না।”
বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসক আর বিমলা বলেন, “আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে কী করা যায় দেখছি।”
চিকিৎসকবিহীন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এলাকার হাজার হাজার মানুষের জন্য এক গুরুতর সমস্যা তৈরি করেছে, বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন সাপের উপদ্রব বাড়ে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়। দ্রুত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ করে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।