আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে রহস্য: আড়াই বছরের শিশুসহ নিখোঁজ মা, নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে রহস্য: আড়াই বছরের শিশুসহ নিখোঁজ মা, নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন!
নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: ফের একবার প্রশাসনিক গাফিলতি ও নিরাপত্তার কঙ্কালসার চেহারা সামনে এল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে। খোদ হাসপাতালের ইনডোর ওয়ার্ড থেকে আড়াই বছরের শিশুকন্যাসহ এক মহিলা রোগী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা জেলায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই মা ও শিশুর হদিস না মেলায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে অসমের গোসাইগাঁও এলাকা থেকে এক মহিলা শারীরিক অসুস্থতার কারণে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল তাঁর আড়াই বছরের শিশুকন্যা। মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্যকর্মীরা ওয়ার্ডে রাউন্ডে গিয়ে দেখেন, নির্দিষ্ট বেডে মা ও শিশু কারোরই দেখা নেই। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করার পর তাঁদের কোনো সন্ধান না মেলায় তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় হাসপাতাল সুপার ড: পরিতোষ মন্ডলকে। হাসপাতালের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়াতেই খবর যায় আলিপুরদুয়ার থানায় এবং মহিলার পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়।
সুপারের প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক:
ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা হাসপাতাল সুপার ড: পরিতোষ মন্ডল কিছুটা ক্ষুব্ধ স্বরেই বলেন, “হাসপাতালের সবার অলক্ষ্যে যদি কোনো রোগী নিজে থেকেই চলে যায়, তবে আমাদের পক্ষে কী করার আছে? আমরা পুলিশকে জানিয়েছি, এখন বাকিটা তারা দেখবে।” যদিও সুপারের এই মন্তব্যে দায় এড়ানোর সুরই খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকে, সেখানে কীভাবে একজন অসুস্থ মহিলা একটি শিশুকে নিয়ে সবার চোখ এড়িয়ে প্রধান ফটক পেরিয়ে বেরিয়ে গেলেন? সিসিটিভি ফুটেজ বা গেটের রেজিস্টারে কেন কোনো তথ্য থাকল না?
পুরানো স্মৃতি ও জনক্ষোভ:
ইতিহাস বলছে, এই হাসপাতালে রোগী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার এমন কাণ্ড ঘটেছে। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হাসপাতালের কর্মদক্ষতা ও সিসিটিভি নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিখোঁজ মা ও শিশুর কোনো হদিস মেলেনি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতালের বাতাসে ভাসছে একটাই প্রশ্ন— সরকারি এই জেলা হাসপাতাল কি তবে অসুরক্ষিত হয়ে পড়ছে?

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!