আলিপুরদুয়ারে ফরেস্ট ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় নতুন কৌশল: ডেঙ্গুমেথ্রিন মিশ্রিত জলে মশারী ভেজানোর অভিযান
নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২১ মে ২০২৫ :-
বর্ষা আসার আগেই আলিপুরদুয়ার জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ায় উদ্বিগ্ন জেলা স্বাস্থ্য দফতর এবার মশা নিধনে অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছে। চলতি বছরে ইতিমধ্যেই জেলায় ৫৫ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের নির্দেশেই জেলা স্বাস্থ্য দফতর ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেল্টামেথ্রিন (Deltamethrin) রাসায়নিক মিশ্রিত জলে বাসিন্দাদের মশারি ধুয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করতে চলেছে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হবে। এর জন্য মশা মারার বিশেষ রাসায়নিক কেনার কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। রাজ্যের নির্দেশেই এই রাসায়নিক কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অভিযানের আগে জেলার আশা কর্মীদের মশারি ধোওয়ার বিশেষ পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ২, সুপ্রিয় চৌধুরী জানান, “জেলায় চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত ৫৫ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মশা মারতে রাজ্যের নির্দেশে ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের মশারি বিশেষ রাসায়নিক মিশ্রিত জলে ধুয়ে দেওয়া হবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই অভিযান শুরু করা হবে। তার আগে আশা কর্মীদের মশারি ধোওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
আশা কর্মীরা ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকাগুলির বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্দিষ্ট চৌবাচ্চা বা কন্টেনারে বাসিন্দাদের মশারি রাসায়নিক মিশ্রিত জলে চুবিয়ে শুকিয়ে দেওয়ার জন্য হাতে তুলে দেবেন। এই কাজের জন্য আশা কর্মীদের ইনসেনটিভও দেওয়া হবে।
তবে জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রেখেছে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের ঊর্ধ্বমুখী পরিসংখ্যান। গত বছর জেলায় ছয়টি ব্লকে মোট ৭৪৪ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতেই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য দফতর নড়েচড়ে বসেছে।
বিশেষ করে জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতর এর নামকরণ করেছে ‘ফরেস্ট ম্যালেরিয়া’। জঙ্গলে অ্যানোফিলিস মশার পরিমাণ বেশি থাকায় জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা বেশি করে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই নতুন অভিযানের মাধ্যমে মশার উপদ্রব কমিয়ে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর।