মর্মান্তিক ভুল! ময়নাতদন্তের পর মর্গে মৃতদেহ অদল-বদল, দাহ করার সময় জানা গেল আসল সত্য, আলিপুরদুয়ারের ঘটনায় হুলুস্থুল
নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম,আলিপুরদুয়ার, (২৫ অক্টোবর, ২০২৫):
আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে এক নজিরবিহীন ঘটনায় চরম দুর্ভোগ ও মর্মাহত হয়েছেন দুটি পরিবার। ময়না তদন্তের পর কামাখ্যাগুড়ি এবং ফালাকাটার দুই মৃত ব্যক্তির দেহ অদল-বদল হয়ে যাওয়ায় দুই পরিবারেই হুলুস্থুল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে ফালাকাটা কলেজ পাড়ার বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী গণেশ দাস গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে, ওই একই রাতে কামাখ্যাগুড়ি সুপার মার্কেট এলাকার হোটেল কর্মী রবীন্দ্র দাসেরও ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ফালাকাটা এবং কুমারগ্রাম থানার পুলিশ দু’জনের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে দুই পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয়। ফালাকাটার পরিবার মৃত গণেশ দাসের দেহ নিয়ে আলিপুরদুয়ার শহরের শোভাগঞ্জ শ্মশানে দাহ করতে শুরু করে। কিন্তু, অন্যদিকে কামাখ্যাগুড়ির পরিবার রবীন্দ্র দাসের মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। মৃতদেহের মুখ খোলার পরই তারা দাবি করেন, এটি রবীন্দ্র দাসের দেহ নয়।
তাৎক্ষণিক খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। কামাখ্যাগুড়ির রবীন্দ্র দাসের ছেলে খোকন দাস জানান, “মর্গে আমার কাকারা মৃতদেহ শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু মর্গের ভেতর থেকে মৃতদেহ গাড়িতে তুলে দেওয়ার সময় অদল-বদল করে দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে এনে দেখি এটা আমার বাবার মৃতদেহ নয়। পুলিশ আবার মৃতদেহ ফেরত নিয়ে গেছে। আমার বাবার মৃতদেহ ফালাকাটার পরিবার নিয়ে গেছে। তারা ওই মৃতদেহ আলিপুরদুয়ার শহরের শোভাগঞ্জ শ্মশানে দাহ করার জন্য নিয়ে গেছে।”
পুলিশ দ্রুত কামাখ্যাগুড়ির অদল-বদল হয়ে যাওয়া মৃতদেহ নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পৌঁছায়। এরই মধ্যে মর্মান্তিক ভুলটি ধরা পড়ে ফালাকাটার পরিবারেরও। আলিপুরদুয়ার শহরের শোভাগঞ্জ শ্মশানে চিতায় জ্বলতে থাকা মৃতদেহটি যখন অর্ধেক দাহ হয়ে গিয়েছে, ঠিক তখনই তারা জানতে পারেন যে এই দেহটি তাদের পরিবারের মৃত গণেশ দাসের নয়, এটি আসলে কামাখ্যাগুড়িতে মৃত রবীন্দ্র দাসের দেহ। জ্বলন্ত চিতা আর তখন নেভানো সম্ভব ছিল না।
পরে কামাখ্যাগুড়িতে মৃত রবীন্দ্র দাসের পরিবার শোভাগঞ্জ শ্মশানে এসে উপস্থিত হয়। সেখানে রবীন্দ্র দাসের অবশিষ্ট দেহ দাহ করার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপরেই ফালাকাটার মৃত গণেশ দাসের মৃতদেহও একই শ্মশানে দাহ করা হয়। দুই মৃতদেহ দাহ করার সময় দুই পরিবারের লোকেরাই উপস্থিত ছিলেন।
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, “আমরা ঘটনার খবর পেয়েছি। দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।”
অন্যদিকে জেলা সদর হাসপাতালের সুপার ডা: পরিতোষ মন্ডল এই ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালের মর্গে পরিবারের লোক মৃতদেহ শনাক্ত করার পরেই মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নিয়ম। যাইহোক কোনো স্তরে একটা ভুল হয়ে গেছে। এমন ঘটনা জেলা হাসপাতালের মর্গে নজিরবিহীন। তবুও দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে একটি সুরাহা হয়েছে। একই শ্মশানে দুই মৃতদেহ দাহ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
মৃতদেহ অদল বদলের ঘটনায় কোনো গফিলতি রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের ইতিহাসে এমন ঘটনা প্রথমবার ঘটল।