আলিপুরদুয়ারে নয়া কৌশল! তেলের টিনে লুকানো কাফ সিরাপের বিশাল চালান উদ্ধার
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম,আলিপুরদুয়ার, ২৮শে মার্চ ‘
২০২৫ :

আলিপুরদুয়ার জেলা জুড়ে অবৈধ মাদক কারবারিরা এবার মাদক পাচারের জন্য নতুন কৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার আলিপুরদুয়ার দুই নম্বর ব্লকের শামুকতলা থানার মাঝেডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩১/সি জাতীয় সড়কের কালকূট সেতুর নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সর্ষের তেলের টিন সেই সন্দেহই আরও জোরালো করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক দৃষ্টি এবং সময়োচিত খবর দেওয়ার ফলে পুলিশ বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন কালকূট সেতুর ধারে থরে থরে সর্ষের তেলের টিন সাজানো দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। এতগুলি তেলের টিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে। এরপর আর ঝুঁকি না নিয়ে তারা দ্রুত শামুকতলা থানায় খবর দেন। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন শামুকতলা থানার ওসি জগদীশ বর্মন সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা।
পুলিশ এসে পরিত্যক্ত তেলের টিনগুলির মুখ খোলা শুরু করতেই হতবাক হয়ে যান। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ সর্ষের তেলের টিন মনে হলেও, তার ভেতরে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকানো ছিল প্রচুর পরিমাণে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের বোতল। পুলিশ সূত্রে খবর, মোট সতেরোটি সর্ষের তেলের টিনের ভেতর থেকে কমপক্ষে সাড়ে চার লক্ষাধিক টাকার নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় জেলা পুলিশের অন্দরে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মাদক কারবারিরা যে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। সর্ষের তেলের টিনের মতো নিত্য ব্যবহার্য জিনিস ব্যবহার করে মাদক পাচারের এই অভিনব পদ্ধতি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে তদন্তকারী আধিকারিকদের কপালে।
শামুকতলা থানার ওসি জগদীশ বর্মন জানিয়েছেন, ঠিক কারা এই নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ বোঝাই তেলের টিনগুলি এখানে রেখে গিয়েছিল এবং কোথায় এই চালানটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা জানতে পুলিশ ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। জাতীয় সড়কের পাশে এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়ায় আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের যোগ থাকতে পারে বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ার জেলা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের একটি করিডোর হিসেবে পরিচিত। এর আগেও বহুবার পুলিশ মাদক উদ্ধার করেছে এবং পাচারকারীদের গ্রেফতার করেছে। তবে এই নতুন কৌশল মাদক কারবারিদের আরও বেপরোয়া মনোভাবের পরিচয় দেয় বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। পুলিশের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত এই চক্রের মূল পান্ডারা ধরা পড়ে কিনা, এখন সেটাই দেখার।