জারুল রাভা, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২৫ মে ২০২৬:

আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের চেংমারিতারি গ্রামে প্রতি বছর বর্ষা মানেই এক চরম আতঙ্কের নাম। বর্ষার সময় কোলি নদীর আগ্রাসী রূপ গিলে খায় এলাকার বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি, তলিয়ে যায় বহু বসতবাড়ি। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নদীর ডান তীরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন এই এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু ১৩ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অজস্র প্রতিশ্রুতির পরেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। তবে রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন গ্রামবাসীরা। অবশেষে সোমবার চেংমারিতারি গ্রামের পার্ট নং- ২৯/১৩ এবং ২৮/১৩-এর ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের একটি প্রতিনিধি দল আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসকসহ প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে পুনরায় একটি জরুরি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
গ্রামবাসীদের পক্ষে মোসাব্বর আহমেদ জানান, ২০১৩ সাল থেকে তারা লাগাতার বিডিও, জেলাশাসক এবং সেচ দপ্তরের এক্সেকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত বছর একটি অফিসিয়াল মেমো ইস্যু করা হয়। গ্রামবাসীদের দাবি অনুযায়ী, কোলি নদীর ডান তীরে বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প স্কিম তৈরি ও স্যাঙ্কশনও করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের সমস্ত হিসাব-নিকাশ এবং অনুমোদন হওয়া সত্ত্বেও কেন কাজ শুরু করতে এত দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন তারা। এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, “প্রতি বছর বর্ষায় আমরা সর্বস্বান্ত হই। একটি পরিবারকে এই কয়েক বছরে ছ-সাত বার করে ঘর পরিবর্তন করতে হয়েছে। যেখানে বাঁধের স্কিম সরকার পাস করে দিয়েছে, সেখানে কাজে কেন এত ঢিলেমি?” আসন্ন বর্ষার আগেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার দাবি তুলেছেন তারা।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও সেচ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি— আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা ও ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মনের মাধ্যমেও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আবেদন জানিয়েছেন তারা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জেলাশাসকের সাথে দেখা করার চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হচ্ছিলেন। তবে গত ২৩ তারিখে ইমেইল করার পর নতুন সরকারের তৎপরতায় দ্রুত সাড়া মেলে। সোমবার তারা সরাসরি জেলাশাসকের সাথে দেখা করে নিজেদের কষ্টের কথা জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই নতুন তৎপরতায় চেংমারিটারির বাসিন্দারা আসন্ন বর্ষার আগেই নদী ভাঙনের এই ভয়াল অভিশাপ থেকে চিরতরে মুক্তি পান কি না। প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের এই যৌথ প্রয়াস সফল হলে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের যন্ত্রণার অবসান ঘটবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।