জাপানিজ এনকেফেলাইটিস বনাম স্ক্রাব টাইফাস: আলিপুরদুয়ারে নাবালকের মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা | The 4th Column

জাপানিজ এনকেফেলাইটিস বনাম স্ক্রাব টাইফাস: আলিপুরদুয়ারে নাবালকের মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা
নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২২ মে ২০২৫:

আলিপুরদুয়ার জেলায় এক নাবালকের মৃত্যু ঘিরে জাপানিজ এনকেফেলাইটিস এবং স্ক্রাব টাইফাস রোগের মধ্যে এক নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, জাপানিজ এনকেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাদের সন্তানের, যদিও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর এই দাবি মানতে নারাজ। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত নাবালকের রক্ত পরীক্ষায় স্ক্রাব টাইফাস পজিটিভ এসেছিল। তবে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শুধুমাত্র এনকেফেলাইটিসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই ধোঁয়াশাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

মৃত ছাত্র, ঋতম কুন্ডু, আলিপুরদুয়ার জেলা শহরের ম্যাকউইলিয়াম হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১২ এপ্রিল জ্বরের উপসর্গ নিয়ে তাকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২০ এপ্রিল তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে ২৫ এপ্রিল তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দ নগর এলাকার বাসিন্দা ওই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়।

ঋতমের বাবা রাজা কুন্ডু বলেন, “জ্বরের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরেই আমার ছেলে অসংলগ্নভাবে কথা বলতে শুরু করে। শেষ রক্ষা করা গেল না। পরে জেনেছি জাপানিজ এনকেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ছেলের মৃত্যু হয়েছে।”
তবে জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ২, সুপ্রিয় চৌধুরী, জানান, “ওই ছাত্রের রক্ত পরীক্ষায় তার স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হওয়ার নমুনা মিলেছে। তবে জাপানিজ এনকেফেলাইটিসে মৃত্যুর কথা ডেথ সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা হয়নি। আমরা বিস্তারিত রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় আছি।”

যদি স্ক্রাব টাইফাসের কারণেই এই ছাত্রের মৃত্যু হয়ে থাকে, তবে ২০১৮ সালের পর আলিপুরদুয়ার জেলায় এটিই হবে এই বিশেষ পোকা বাহিত রোগে মৃত্যুর প্রথম ঘটনা। ২০১৮ সালে স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়ে জেলার কালচিনি ব্লকে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনা জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য বিস্তারিত রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!