বক্সা পাহাড়ে ‘দুয়ারে রেশন’ অমিল, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা খাদ্য নিয়ামকের দ্বারস্থ
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম,আলিপুরদুয়ার, ২৪শে এপ্রিল ২০২৫:

দুর্গম বক্সা পাহাড়ে রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলেও, সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য ‘দুয়ারে রেশন’ পরিষেবা অধরা রয়ে গেছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে বুধবার বক্সা পাহাড়ের ১৩টি গ্রামের বাসিন্দারা জেলা খাদ্য নিয়ামকের কাছে নিজেদের অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য সরকার যখন রাজ্যজুড়ে রেশন উপভোক্তাদের জন্য ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প চালু করেছে, তখন বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দারা কেন সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। প্রকল্পের শুরুতে বক্সা পাহাড়ের সদর বাজার পর্যন্ত রেশন সামগ্রী পৌঁছানো হলেও, বর্তমানে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন প্রায় ২৮০০ ফুট উচ্চতা থেকে নেমে রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সান্তালাবাড়ি থেকে সাপ্তাহিক রেশন সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন পাহাড়ের দুর্গম গ্রামগুলির উপভোক্তারা।
জেলা খাদ্য দপ্তর এই সমস্যার কারণ হিসেবে জানিয়েছে, দুর্গম বক্সা পাহাড়ে রেশন পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিয়মিতভাবে পোর্টার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট রেশন ডিলার ওই পাহাড়ি অঞ্চলে ‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প চালু রাখতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে প্রায় পাঁচ হাজার রেশন উপভোক্তা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন।
বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দা বিকাশ থাপা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরাও তো এই রাজ্যেরই বাসিন্দা। তাহলে এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন? আমরা কোনো অন্যায় আবদার করছি না। আমাদের দুয়ারে রেশনের দাবি মানতে হবে।”
আরেক বাসিন্দা কিনলে ডুকপা বর্ষাকালের আসন্ন কষ্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এখন তো কোনোমতে যাওয়া আসা করা যাচ্ছে, কিন্তু সামনেই বর্ষার মরশুম আসছে। তখন আমরা কীভাবে সমতলের সান্তালাবাড়ি পর্যন্ত নেমে আসব? তাই আমাদের আবেদন, বক্সা পাহাড়ে দ্রুত দুয়ারে রেশন প্রকল্প চালু করতে হবে।”
জেলা খাদ্য নিয়ামক বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দাদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাতে বক্সার মানুষরাও দুয়ারে রেশন প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হন।”
বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দারা এখন জেলা খাদ্য দপ্তরের আশ্বাসের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং আশা করছেন দ্রুত তাঁদের ‘দুয়ারে রেশন’-এর দাবি পূরণ হবে।