ডমরু ধর, নিজস্ব প্রতিনিধি, ফালাকাটা, ১১ মে ২০২৬:

উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ব্রহ্মপুত্র বোর্ডে জায়গা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের খবর সামনে আসতেই খুশির হাওয়া আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার চা বলয় জুড়ে। সোমবার এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে কেন্দ্রকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
১৯৮০ সালে অসম সহ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ ব্যবস্থা এবং বহুমুখী উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও এই বোর্ডে পশ্চিমবঙ্গের কোনো স্থায়ী প্রতিনিধি ছিল না। এর ফলে প্রতি বছর বর্ষায় ভুটান থেকে নেমে আসা নদী ও ঝোরার তাণ্ডবে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হলেও কেন্দ্রীয় স্তরে জোরালো দাবি তোলার সুযোগ ছিল না। বিশেষ করে ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলের চা বাগানগুলো প্রতি বছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতো।
চা বাগান মালিকদের সংগঠন ‘আইটিপিএ’ (ITPA)-র ডুয়ার্স শাখার সচিব রাম অবতার শর্মা এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, “ভুটান থেকে নেমে আসা নদীগুলোর কারণে গত ৩০ বছর ধরে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার চা বাগান এবং কোচবিহার জেলা চরম যন্ত্রণা ভোগ করেছে। এবার বোর্ডে বাংলার প্রতিনিধি থাকায় সঠিক পরিকল্পনা ও কেন্দ্রীয় অর্থে বাঁধ নির্মাণের কাজ সম্ভব হবে।”
তথ্য অনুযায়ী, ভুটান থেকে নেমে আসা জলে ডলোমাইটের দূষণ উত্তরবঙ্গের পরিবেশ ও অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করছে। কালচিনি ব্লকের সুভাষিণী চা বাগানে গত বছর ৯২ একর জমি এই দূষণে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এছাড়া হান্টাপাড়া, তুলসিপাড়া, গ্যারগেন্ডা এবং গ্রাসমোর-এর মতো বহু ঐতিহ্যবাহী বাগান আজ ধ্বংসের মুখে। পরিসংখ্যন বলছে, দুই জেলার প্রায় ৭৫টি চা বাগান সরাসরি এই জলদাপ্লাবিত সমস্যার শিকার। স্থায়ী প্রতিনিধি নিযুক্ত হওয়ার ফলে এখন এই নদী ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে অলাভজনক হয়ে পড়া বাগানগুলো আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে।