ভোট মিটলেও আলিপুরদুয়ারে কংগ্রেস-বিজেপির অন্দরের ক্ষোভ কি আদৌ প্রশমিত হলো? The 4th Column

জারুল রাভা, দ্য ফোর্থ কলাম , আলিপুরদুয়ার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ :-


শান্তনু-পরিতোষ-মৃন্ময়[/caption]

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। প্রায় শান্ত ও নিরুপদ্রব আবহে গত ২৩ এপ্রিল সম্পন্ন হয়েছে আলিপুরদুয়ারের ভোটগ্রহণ পর্ব। উৎসবের মেজাজে ভোট মিটলেও, নির্বাচনের আগে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস ও বিজেপি—উভয় শিবিরের অন্দরের বিদ্রোহ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা থামছে না। প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই দলেই যে নজিরবিহীন সংঘাত তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ড্যামেজ কন্ট্রোলের লড়াইয়ে পর্যবসিত হয়। তবে এই বিবাদ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপি প্রার্থী পরিতোষ দাস কিছুটা সফল হলেও, কংগ্রেসের মৃণ্ময় সরকার সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
নির্বাচনের আগে বিজেপি ও কংগ্রেস দুই দলের জেলা কার্যালয়ই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। বিজেপির প্রার্থী পরিতোষ দাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জেলা অফিসে তালা ঝুলিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। উঠেছিল প্রার্থী বয়কট স্লোগান । অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী মৃণ্ময় সরকারের বিরোধিতায় শান্তনু দেবনাথ গোষ্ঠীর অনুগামীরা জেলা কার্যালয়ে তালা মারলে পরিস্থিতি রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। হাতাহাতি, মাথা ফাটাফাটি থেকে শুরু করে ৭ জনের গ্রেফতারি—সব মিলিয়ে আলিপুরদুয়ারের রাজনীতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
তবে ভোট যত এগিয়েছে, বিজেপি শিবিরের ছবিটা দ্রুত বদলেছে। গেরুয়া নেতৃত্বের তৎপরতায় বিক্ষুব্ধদের মানভঞ্জন করে সবাইকে একই ছাতার তলায় আনতে সক্ষম হয়েছেন পরিতোষ দাস। তাঁর কথায়, “বিজেপি বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক পরিবার। বড় পরিবারে সামান্য মতান্তর হতেই পারে। কিন্তু তৃণমূলকে হারানোর লক্ষ্যে আমরা সবাই এককাট্টা।” লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে বিদ্রোহ করা বিজেপি কর্মীরা এখন এই বিষয়ে নীরবতা পালন করছেন।
অপরদিকে, বিপরীত চিত্র ধরা পড়েছে কংগ্রেস শিবিরে। প্রার্থী মৃণ্ময় সরকার সকলকে নিয়ে লড়াই করার ডাক দিলেও, তাঁর দলের প্রধান প্রতিপক্ষ শান্তনু দেবনাথ নিজেকে ভোট প্রচার থেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছিলেন। শান্তনুবাবুর আক্ষেপ, “আমাকে কেউ ডাকেনি, তাই কার হয়ে লড়াই করতাম?” অন্যদিকে মৃণ্ময়বাবুর সাফাই, “পরিবার বড় হলে দায় সবার সমান। কেউ নিজে থেকে সরে থাকলে সেই দায় আমার নয়।”
ফলত, আলিপুরদুয়ারের ভোট মিটলেও এক দলের সংহতি আর অন্য দলের অভিমান—এই দুইয়ের জাঁতাকলে দাঁড়িয়ে আগামীর ফলাফল কী হয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!