নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৯ মে ২০২৬ :

নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার শহরে এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে চন্দন কুমার (৩১) নামে ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত যুবক আদতে বিহারের বাসিন্দা এবং পেশায় একটি গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তবে যে অবস্থায় দেহটি উদ্ধার হয়েছে, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে গভীর রহস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ এপ্রিল কাজের সূত্রে আলিপুরদুয়ারে এসেছিলেন চন্দন। শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িতে তিনি একাই ভাড়া থাকতেন। বিহারে তাঁর স্ত্রী ও মাত্র ১৪ মাসের একটি সন্তান রয়েছে। বাড়ির মালিকের দাবি অনুযায়ী, চন্দন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং কারও সঙ্গে তাঁর কোনো বিবাদ ছিল না।
শনিবার সকালে ঘটনার মোড় ঘোরে নাটকীয়ভাবে। বাড়ির মালিক জানান, আচমকাই আলিপুরদুয়ার থানা থেকে ফোন করে তাঁর বাড়ির সঠিক ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানায়, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। এরপর মইয়ের সাহায্যে জানলা দিয়ে উঁকি মারতেই দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সাথে চন্দনের দেহ ঝুলছে। কিন্তু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায় দেহের অবস্থানে—মৃতদেহটি হাঁটু ভাঁজ করা বা হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় ছিল। এই দৃশ্য দেখার পরই এলাকায় গুঞ্জন শুরু হয় যে, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠায়। চন্দনের পরিবারকে ইতিপূর্বেই বিহারে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা আলিপুরদুয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। বাড়ির মালিক হতভম্ব হয়ে জানিয়েছেন, “চন্দন খুব ভালো মানুষ ছিলেন। কেন এমনটা হলো বা কোনো মানসিক চাপ ছিল কি না, তা আমরা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি।”
আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে খুনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না স্থানীয়রা। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা।