নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১ মার্চ ২০২৬ :

জাটিঙ্গার রহস্য: যেখানে আকাশ থেকে ‘ঝরে পড়ে’ হাজারো পাখির প্রাণ
ভারতের আসাম রাজ্যের ডিমা হাসাও জেলার এক শান্ত, মনোরম গ্রাম জাটিঙ্গা। পাহাড় আর কুয়াশায় ঢাকা এই উপত্যকা পর্যটকদের কাছে যতটা আকর্ষণীয়, তার চেয়েও বেশি পরিচিত এক অদ্ভুত এবং মর্মান্তিক ঘটনার জন্য, যাকে অনেকে বলেন ‘পাখিদের গণ-আত্মহত্যা’। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বর্ষার শেষে অমাবস্যার রাতে এখানে ঘটে চলে এই অবিশ্বাস্য ঘটনা।
সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে, যখন আকাশ থাকে মেঘলা এবং ঘন কুয়াশায় ঢাকা, তখন জাটিঙ্গা গ্রামের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় শত শত স্থানীয় ও পরিযায়ী পাখি অদ্ভুত আচরণ শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে তারা ভারসাম্য হারিয়ে তীব্র গতিতে গ্রামের মশাল বা কৃত্রিম আলোর উৎসের দিকে ছুটে আসে। গাছের ডাল বা বাড়ির দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অবাক করার বিষয় হলো, আহত বা অর্ধমৃত পাখিগুলোকে গ্রামবাসীরা যখন ধরে, তারা কোনো বাধা দেয় না বা পালানোর চেষ্টাও করে না।
বহু বছর ধরে স্থানীয়রা বিশ্বাস করতেন, এটি কোনো অশুভ আত্মার কাজ। কুসংস্কারের বশে গ্রামবাসীরা একসময় এই পড়ন্ত পাখিগুলোকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলতেন। তবে আধুনিক পক্ষীবিদরা এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের মতে, তীব্র বাতাস, ঘন কুয়াশা এবং এই অঞ্চলের বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাখিরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কুয়াশার মধ্যে গ্রামের আলো দেখে তারা সেটিকে দিগন্ত ভেবে ভুল করে এবং তীব্র গতিতে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। কোনো কোনো বিজ্ঞানী আবার এই এলাকায় ভূ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের পরিবর্তনের তত্ত্বও সামনে এনেছেন।
বর্তমানে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থার প্রচেষ্টায় গ্রামবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। ‘পাখিদের আত্মহত্যা’ দেখতে আসা পর্যটকদের ভিড়ও বাড়ছে। বিজ্ঞান এবং কুসংস্কারের এই টানাপোড়েনের মাঝে জাটিঙ্গা আজও রয়ে গেছে প্রকৃতির এক অমীমাংসিত রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু।