নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ :-

আইআইটি কোর্সে পড়ার সুযোগ পেয়েও শুধুমাত্র আর্থিক কারণেই পিছিয়ে যেতে হতো, যদি না সুপ্রিম কোর্ট সঠিক সম য়ে পড়ুয়ার পাশে না থাকত, তাহলে হয়তো এক মেধাবী পড়ুয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যেতো!
প্রসঙ্গত, ধানবাদে আইআইটি পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর জেলার টিটোরা গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের জন্ম হওয়া অতুল কুমার। সঠিক সময়ের মধ্যে কলেজের টিউশন ফি জমা দিতে না পারার জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতেই পারতেন না অতুল কুমার, যদিও কোন মতে টাকা জোগাড় করে টিউশন ফি জমা দিয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে পেরেছিলেন। জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে আরও সংকটে পড়লেন অতুল কুমার ও তার পরিবার। কারণ আইআইটি পড়ার জন্য অ্যাক্সেপ্ট্যান্স ফি হিসেবে জমা করতে হত ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, কিন্তু অতুল কুমারের বাবা ছিলেন দিন মজুর, দারিদ্রতা তাদের নিত্যসঙ্গী। খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকাটাই কোনরকম সম্ভব, এরপরে পড়াশোনার জন্য এতগুলো টাকা কোথা থেকে জোগাড় হবে এই ভেবেই কূলকিনারা করতে পারছিলেন না। এদিকে টাকা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২৪ জুন । যা জমা দিতে হতো পরীক্ষার রেজাল্ট বেড়াবার ৪ দিনের মধ্যেই। কোনওভাবেই দলিত ছাত্র অতুল কুমারের পরিবারের পক্ষে অল্পদিনের মধ্যে এতগুলো টাকা জোগাড় করা সম্ভবপর ছিল না। তাই অগত্যা আইআইটির সিট সংরক্ষণের দাবি নিয়ে তার পরিবার মাদ্রাজ উচ্চ আদালত, ঝাড়খন্ড লিগাল সার্ভিসেস অথরিটি এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর শিড্যুল কাস্টস দফতরে দিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্ত কোনোভাবেই তাদের দাবি মঞ্জুর করা হয়নি।
এরপরেই অতুলের পরিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি জেবি পর্দিওয়ালা ও মনোজ মিশ্রর বেঞ্চ, অতুল কুমারের সমস্ত তথ্য জানার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, দলিত ছাত্র অতুল কুমারের আইআইটি পড়ার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সবরকম ভাবেই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তার পাশে আছে, সেইসাথে আইআইটি মাদ্রাজের জয়েন্ট সিট অ্যালোকেশন অথরিটিকে এই ব্যাপারে নোটিশ জারি করে জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় কোর্ট।